
শেরপুর সদর উপজেলার একটি ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন প্রাচীন বটগাছ বিক্রির উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বন্ধ হয়েছে। পরিবেশকর্মী, সচেতন নাগরিক ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিবাদের পর স্থানীয় প্রশাসন গাছটি সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেয়।
জানা গেছে, শনিবার দুপুরে সদর উপজেলার লছমনপুর ইউনিয়নের ছোট ঝাউয়ের চর নামাপাড়া এলাকার পুরোনো ঈদগাহ মাঠ সংস্কারের অংশ হিসেবে মাঠের পাশে থাকা শতবর্ষী বটগাছটি বিক্রির বিজ্ঞপ্তি ঘোষণা দেওয়া হয়। ঈদগাহ কমিটির সদস্য শাহরিয়ার শামীম তার ফেসবুক পেইজে এ সংক্রান্ত একটি পোস্ট দিলে বিষয়টি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বিভিন্ন মহল থেকে গাছটি বিক্রি ও না কাটার দাবি জানানো হয়।
পরে বিষয়টি জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের নজরে এলে তিনি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা বিনতে রফিককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। নির্দেশনার পর ইউএনও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ করে গাছ বিক্রি ও কাটার কার্যক্রম বন্ধ করেন। প্রায় আট শতক জমির ওপর অবস্থিত ঈদগাহ মাঠ এবং বটগাছটি ওয়াক্ফ সম্পত্তির অন্তর্ভুক্ত।
সেভ ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড ন্যাচার (সোয়ান) এর সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হক মনি বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে রাষ্ট্রপ্রধান তারেক রহমান নিজ উদ্যোগে সারাদেশে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন, যা ইতোমধ্যে বাস্তবায়নাধীন। এমন একটি সময়ে শতবর্ষী একটি গাছ বিক্রির জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক। এটি পরিবেশ সংরক্ষণের চেতনার সাথে সাংঘর্ষিক। তবে, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ায় আমরা তাদের আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। আশা করি, ভবিষ্যতেও এ ধরনের পরিবেশবিরোধী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে প্রশাসন একইভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা বিনতে রফিক বলেন, সংশ্লিষ্টদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যেকোনো অবস্থাতেই বটগাছটি কাটা যাবে না। কমিটির সদস্যরাও গাছটি সংরক্ষণের আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকে গাছটির বিষয়ে নিয়মিত নজরদারি রাখা হবে।
শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, বিষয়টি আমার নজরে আসার পর দ্রুত প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয় এবং গাছটি সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।