
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো কর্মসূচি ভালো উদ্যোগ হলেও টাকার বিনিময়ে জনগণের সম্মান ও মর্যাদা কেনা সম্ভব নয়। তিনি অভিযোগ করেন, এসব কর্মসূচির মাধ্যমে ভোটাধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলার চেষ্টা করা হলে তার পরিণতি শুভ হবে না।
শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে ময়মনসিংহ নগরীর রেলওয়ে কৃষ্ণচূড়া চত্বরে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মামুনুল হক বলেন, শেখ হাসিনা যেমন উন্নয়ন প্রকল্প দিয়ে মানুষের আত্মমর্যাদা কেনার চেষ্টা করেছিলেন, তেমনি বর্তমান সরকারও যদি একই পথে হাঁটে, তবে একই পরিণতির মুখোমুখি হবে। তিনি বলেন, জনগণের ভোটাধিকার ও গণভোটের রায় শান্তিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, গণভোটের মাধ্যমে প্রকাশিত জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে কোনো ‘চোরাই পথে’ এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হবে। প্রয়োজনে জনগণের অধিকার আদায়ে আবারও আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, জাতীয় নির্বাচনে ফলাফল ‘ম্যানিপুলেশন’ করা হয়েছে এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা হয়নি। তিনি সরকারের কাছে মালয়েশিয়া ও চীন সফরে সম্পাদিত চুক্তিগুলো সংসদে প্রকাশের দাবি জানান।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া গণভোট বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি সরকার রক্ষা করেনি। তিনি দ্রব্যমূল্য, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং পররাষ্ট্রনীতি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ নেজামে ইসলামের ভারপ্রাপ্ত আমির আবদুল কাইয়ুম সোবহানী, খেলাফত মজলিসের আমির আবদুল বাছিত আজাদ, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবীবুল্লাহ মিয়াজী, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এ কে এম আনোয়ারুল ইসলামসহ ১১ দলীয় জোটের নেতারা।