
দীর্ঘ তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করে রাখা রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটাতে অবশেষে এক ঐতিহাসিক সমঝোতায় পৌঁছাতে যাচ্ছে ওয়াশিংটন ও তেহরান। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই চিরবৈরী দুই পরাশক্তির মধ্যে একটি যুগান্তকারী শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে।
আজ শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ আনুষ্ঠানিকভাবে এই চাঞ্চল্যকর ও স্বস্তিদায়ক তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জানান, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ বন্ধে প্রধান মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে পাকিস্তান ইতিমধ্যেই এই চুক্তির ইলেকট্রনিক বা ডিজিটাল স্বাক্ষরের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে। এই প্রাথমিক প্রক্রিয়ার পর আগামী সপ্তাহেই দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে কারিগরি বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শুরু হবে।
পরিস্থিতি সম্পর্কে আশাবাদ ব্যক্ত করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেন, "শান্তিচুক্তির আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন আমরা অনেক বেশি কাছাকাছি অবস্থানে আছি। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর পাকিস্তান ইলেকট্রনিক স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নেবে এবং পরবর্তী ধাপে আগামী সপ্তাহে কারিগরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।"
বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে এই চুক্তির ইতিবাচক প্রভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও যোগ করেন, "এই ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি দীর্ঘমেয়াদি শান্তির জন্য একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করবে বলে আমরা আত্মবিশ্বাসী।"
এর আগে গত শুক্রবারই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—উভয় দেশের পক্ষ থেকে চলমান যুদ্ধ থামানোর বিষয়ে একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর জোরালো ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। মার্কিন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, দুই দেশ ইতিমধ্যেই চুক্তির একটি যৌথ খসড়ার ওপর একমত পোষণ করেছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এর প্রাথমিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হতে পারে।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের মধ্য দিয়ে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সূত্রপাত ঘটেছিল। এর পাল্টা জবাব হিসেবে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও লক্ষ্যবস্তুগুলোতে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। একই সময়ে লেবাননের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের অভ্যন্তরে ব্যাপক আক্রমণ শুরু করলে পুরো অঞ্চলের যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়।
টানা তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই বিধ্বংসী যুদ্ধে এ পর্যন্ত হাজার হাজার সাধারণ মানুষ ও সামরিক সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। শুধু তা-ই নয়, এই ভূরাজনৈতিক সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা দেখা দেয় এবং বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। তবে এই সম্ভাব্য চুক্তির খবরে বিশ্বজুড়ে শান্তির সুবাতাস বইতে শুরু করেছে।
সূত্র: রয়টার্স