
প্রেমের সম্পর্কের অবসান মেনে নিতে না পেরে কর্মক্ষেত্রের ভেতরেই এক তরুণীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে তার সাবেক প্রেমিক ও সহকর্মী। ভারতের পাঞ্জাবের মোহালিতে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ভেতরে ডিম্পল নামের ওই তরুণীকে তারই সহকর্মী হরবিন্দর মান ওরফে হ্যারি উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেন।
শুক্রবার (৫ জুন) ইন্ডিয়া টিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, সম্পর্কের টানাপোড়েন ও পুরোনো বিরোধ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে অফিসের অন্য সহকর্মীদের চোখের সামনেই এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড ঘটে। শুধু তাই নয়, ভুক্তভোগী তরুণীর মৃত্যু নিশ্চিত করার পর অভিযুক্ত হ্যারি নিজের গলায় ৩০ বারেরও বেশি ছুরিকাঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত এবং অফিসের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৪০ মিনিটে হ্যারি আচমকা ওই অফিসে প্রবেশ করেন। সে সময় ডিম্পল নিজের ডেস্কে বসে মনোযোগ দিয়ে কাজ করছিলেন। হ্যারি পেছন থেকে এসে হঠাৎ করেই ডিম্পলকে লক্ষ্য করে ছুরিকাঘাত করতে শুরু করলে তিনি আত্মরক্ষার্থে তীব্র চিৎকার করে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু হ্যারি দরজার কাছে ডিম্পলের চুল ধরে টেনেহিঁচড়ে এনে আবারও নির্বিচারে ছুরিকাঘাত করতে থাকেন।
অফিসের চার-পাঁচজন কর্মী হ্যারিকে থামানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন এবং ডিম্পল নিস্তেজ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ার পরও হ্যারি তাকে ২০ বারেরও বেশি ছুরিকাঘাত করেন। এরপর হ্যারি ডিম্পলের ডেস্কের সামনে ফিরে গিয়ে নিজের জীবন শেষ করতে নিজের গলায় উপর্যুপরি আঘাত করতে শুরু করেন।
অফিস কক্ষের ভেতরে এমন রোমহর্ষক ও ভয়াবহ কাণ্ড দেখে আতঙ্কিত সহকর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশে খবর দেন এবং দুজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে নিকটবর্তী ফোর্টিস হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ডিম্পলকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে অভিযুক্ত হ্যারির অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হ্যারি এবং ডিম্পল গত প্রায় তিন বছর ধরে একটি ‘প্যাকার্স অ্যান্ড মুভার্স’ নামক বেসরকারি সংস্থায় একসঙ্গে কাজ করছিলেন এবং সেই সূত্রেই তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের একটি প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে কিছুদিন আগে তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়ে গেলে হ্যারি সম্পর্কটি আবারও জোড়া লাগানোর জন্য মরিয়া চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু ডিম্পল তাতে স্পষ্ট রাজি না হওয়ায় হ্যারি চরম হতাশ ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে এই নৃশংস হামলা চালান।
পাঞ্জাব পুলিশ ইতিমধ্যেই ভুক্তভোগী ও অভিযুক্ত উভয়ের পরিবারকে বিষয়টি অবহিত করেছে, তারা পাঞ্জাবের পাটিয়ালার বাসিন্দা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। পুলিশের ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা ছুরিসহ সব আলামত সংগ্রহ করেছে এবং এই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আজ নিহত তরুণীর মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় থানা প্রশাসন। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রকৃত কারণ ও মূল উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখতে হ্যারি ও ডিম্পলের মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের চ্যাটগুলো গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।