
উদ্বোধনের জমকালো আনুষ্ঠানিকতা ঢের বাকি, কিন্তু এরই মধ্যে যেন খসে পড়তে শুরু করেছে পলেস্তারা। ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় নবনির্মিত মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রটির মূল ভবনের বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের ফাটল দেখা দেওয়ায় নির্মাণকাজের মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি এই মেগা প্রকল্পের ধর্মীয় স্থাপনাটি পূর্ণাঙ্গ চালু হওয়ার আগেই এমন বেহাল দশা দেখে স্থানীয় মুসল্লি ও সাধারণ মানুষের মনে গভীর উদ্বেগ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা গেছে, দৃষ্টিনন্দন তিনতলা মসজিদ ভবনের ভেতরের ও বাইরের দেয়াল এবং প্লাস্টারে ছোট-বড় অসংখ্য ফাটলের দাগ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এখনও ভবনটির আনুষ্ঠানিক দ্বারোদ্ঘাটন কিংবা কোনো ব্যবহার শুরু না হতেই এমন ত্রুটি প্রকাশ পাওয়ায় ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, ধর্মপ্রাণ মানুষের আবেগের এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাটিতে রড-সিমেন্টের গুণগত মান রক্ষা করা হয়নি। স্থানীয়রা দাবি করেছেন, ত্রুটি ফাঁসের পর পরিস্থিতি সামাল দিতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তড়িঘড়ি করে কিছু জোড়াতালির মেরামতের কাজ শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে দেশজুড়ে ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকার। সংশ্লিষ্ট সরকারি সূত্র জানায়, প্রায় ৯ হাজার ৪৩৫ কোটি টাকার এই বিশাল বাজেটের আওতায় উপজেলা পর্যায়ের একেকটি আধুনিক মসজিদ তৈরিতে গড়ে ১৫ থেকে ১৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
ভালুকার এই মডেল মসজিদটি নির্মাণের কাজ পেয়েছে ‘নাঈমা এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। মোট ১৩ কোটি ৪৪ লাখ ৩৬ হাজার ৮৫০ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই তিনতলা কমপ্লেক্সে নারী ও পুরুষদের আলাদা নামাজ ঘর, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অফিস, ইমামদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, হজযাত্রীদের ওরিয়েন্টেশন সুবিধা, সমৃদ্ধ লাইব্রেরি ও গণশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার আধুনিক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে এই ত্রুটিপূর্ণ কাজের বিষয়ে জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বা সংশ্লিষ্ট প্রকল্প কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা মুখ খোলেননি।
অবশ্য হস্তান্তরের আগেই গলদ ধরা পড়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক। তিনি জানান, হস্তান্তরের আগে যাচাই কমিটির সদস্যদের নিয়ে পরিদর্শনে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে ফাটলসহ কিছু ত্রুটি শনাক্ত করা হয়েছে। এসব ত্রুটি সংশোধনের পর পুনরায় পরিদর্শন করা হবে। সবকিছু সন্তোষজনক হলে প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হবে।
মসজিদটি বুঝে নেওয়ার বিষয়ে কড়া অবস্থান ব্যক্ত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফিরোজ হোসেন বলেন, "ত্রুটিপূর্ণ অবস্থায় মসজিদটি হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা গ্রহণ করা হয়নি। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলীকে প্রধান এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপারভাইজারকে সদস্যসচিব করে সাত সদস্যের একটি যাচাই কমিটি গঠন করা হয়েছে।"
এদিকে ময়মনসিংহ গণপূর্ত বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ফাহমিদ ইফতেখার আলী আইনি পদক্ষেপ ও মেরামতের তাগিদ দিয়ে বলেন, "কিছু ত্রুটি শনাক্ত হওয়ায় ঠিকাদারকে দ্রুত সেগুলো সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে কিছু সময় দেওয়া হয়েছে। ত্রুটি সংশোধন শেষে মসজিদটি দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।"