
ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি জোরদার করছে বলে জানিয়েছে একটি মার্কিন গণমাধ্যম।
শুক্রবার (১৫ মে) প্রকাশিত প্রতিবেদনে মধ্যপ্রাচ্যের দুই কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়, নতুন করে সংঘাত শুরু হলে আগের চেয়ে আরও বড় পরিসরে ইরানে হামলা চালানো হতে পারে। সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও থাকতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পারস্য উপসাগরে ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ নিয়েও পরিকল্পনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ইরানের মূল ভূখণ্ডে বিশেষ বাহিনী পাঠিয়ে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জব্দ করার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। তবে এমন অভিযান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এতে সরাসরি সংঘর্ষ ও প্রাণহানির সম্ভাবনাও রয়েছে।
এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় কাঙ্ক্ষিত সমাধান না আসার বিষয়টি এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সে কারণে সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতি ধরে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেন, সেদিকেও নজর রাখছে তেল আবিব।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহব্যাপী সম্ভাব্য সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছি। এখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চূড়ান্ত অবস্থানের অপেক্ষা চলছে।’
এর আগে গত সপ্তাহে চীন সফর শেষে ফেরার পথে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, ইরান যদি দীর্ঘ সময়ের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখার নিশ্চয়তা দেয়, তাহলে আলোচনার সুযোগ থাকতে পারে। যদিও এর আগে তিনি সম্পূর্ণভাবে এ কর্মসূচি বন্ধের শর্ত দিয়েছিলেন।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক উত্তেজনা নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিতে পারে। বিশেষ করে পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের টানাপোড়েন আবারও সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস