
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তাল জলরাশিতে আটকা পড়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে মুক্ত করতে এবার সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের পথে হাঁটছে ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আকস্মিক এই ঘোষণা পারস্য উপসাগরে নতুন করে যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে দিয়েছে, যা অঞ্চলটির ভঙ্গুর শান্তিকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
ট্রাম্পের ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ ও মানবিক যুক্তি
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা-র তথ্যমতে, স্থানীয় সময় রোববার (৩ মে) এক ঘোষণায় ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, সোমবার থেকে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি বিশেষ অভিযান শুরু করছে যুক্তরাষ্ট্র। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা জাহাজগুলোকে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে সহায়তা করা।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প দাবি করেন, বেশ কিছু দেশের অনুরোধেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যদিও তিনি কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্রের নাম প্রকাশ করেননি। ওই পোস্টে তিনি বলেন, আটকে থাকা জাহাজগুলো ‘নিরপেক্ষ ও নির্দোষ’ এবং তাদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা জরুরি।
প্রেসিডেন্ট আরও উল্লেখ করেন যে, জাহাজগুলোতে পর্যাপ্ত খাবার এবং বিপুল সংখ্যক ক্রু সদস্যদের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসম্মত সরঞ্জামের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এই অভিযানকে তিনি একটি ‘মানবিক পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করে কঠোর সতর্কবার্তাও দিয়েছেন। ট্রাম্পের ভাষায়, এই অভিযানে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করা হলে তা দুর্ভাগ্যবশত কঠোরভাবে মোকাবিলা করতে হবে।
ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি: যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের আশঙ্কা
ট্রাম্পের এই অভিযানকে সহজভাবে নিচ্ছে না তেহরান। গত ৭ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি এই পদক্ষেপের ফলে ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি মার্কিন হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ‘হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগর কোনো কাল্পনিক ঘোষণায় পরিচালিত হবে না।’
ইরানি কর্তৃপক্ষের মতে, হরমুজ প্রণালিতে যেকোনো ধরনের মার্কিন সামরিক তৎপরতা চলমান যুদ্ধবিরতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে।
সেন্টকমের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তার ঝুঁকি
এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম নিশ্চিত করেছে যে, সোমবার থেকেই তারা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে সহায়তা প্রদান শুরু করবে। সেন্টকম কমান্ডার Brad Cooper এই মিশনের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন:
এই প্রতিরক্ষামূলক মিশন আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
তবে এই সহায়তার ধরণ কেমন হবে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়নি সেন্টকম। এর আগে মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, ইরানি ভূখণ্ড থেকে হামলার ঝুঁকি থাকায় সংকীর্ণ এই জলপথে জাহাজ পাহারা দেওয়ার কাজটিতে তারা সরাসরি অংশ নিতে কিছুটা দ্বিধান্বিত।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে এখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, যার ফলাফল নির্ভর করছে সোমবারের বাস্তব পরিস্থিতির ওপর।