
প্রতিদিন মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নতুন মাত্রা পাচ্ছে। এবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে ইরান।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাইদ ইরাভানি জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে একটি চিঠি পাঠায়।
চিঠিতে ইরান অভিযোগ করেছে, তাদের ভূখণ্ডে হামলা চালাতে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করেছে। এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘিত হয়েছে বলে দাবি করে জাতিসংঘে পাঠানো ওই চিঠিতে ক্ষতিপূরণ চেয়েছে তেহরান।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ইউএই তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দিয়ে “আন্তর্জাতিকভাবে বেআইনি কাজ” করেছে, যা রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতার মধ্যে পড়ে।
চিঠিতে নিজেদের আত্মরক্ষার বিষয়ে ইরান জানিয়েছে, যেকোনো সামরিক ঘাঁটি বা স্থাপনা যদি ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় ব্যবহৃত হয়, তবে তা বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ক্ষয়ক্ষতি ঠেকাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকারও সংরক্ষণ করছে।
এ ঘটনা এমন এক সময় সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত দ্রুত বিস্তৃত হয়ে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনায় হামলা, পাল্টা হামলা এবং কূটনৈতিক টানাপোড়েনে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে।
অন্যদিকে, উপসাগরীয় দেশগুলো ইতোমধ্যে ইরানের হামলার অভিযোগ তুলে আন্তর্জাতিক মহলে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে এবং বিষয়টি জাতিসংঘের বিভিন্ন ফোরামে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউএইকে সরাসরি দায়ী করে ক্ষতিপূরণ দাবি ইরানের কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর কৌশলের অংশ। এতে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।