
ইরান যুদ্ধ তৃতীয় সপ্তাহে গড়াতেই নতুন মাত্রা পেতে চলেছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র এখন মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর সম্ভাবনা গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন হাজার হাজার অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের বিকল্প নিয়ে আলোচনা করছে, যা চলমান সামরিক অভিযানের পরবর্তী ধাপ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য এই সেনা মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন কৌশলগত সুযোগ দেবে। এর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা এবং ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার মতো পদক্ষেপ। তবে এসব পদক্ষেপের সঙ্গে বড় ধরনের ঝুঁকিও জড়িত, কারণ অঞ্চলটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল।
এ ছাড়া ইরানের পারমাণবিক উপাদানের মজুদসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সুরক্ষায় স্থলবাহিনী মোতায়েনের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
প্রতিবেদন আরও জানায়, ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ অভিযানের আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক সক্ষমতা ভেঙে দেওয়া, নৌবাহিনী ধ্বংস করা এবং পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়ন ঠেকানোর লক্ষ্য নিয়ে অভিযান চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে সাত হাজার আটশোর বেশি হামলা পরিচালিত হয়েছে, যাতে ইরানের নৌ সক্ষমতায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।
তবে এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রও ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং প্রায় ২০০ জন আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
একসময় বিদেশি যুদ্ধে জড়ানোর বিষয়ে অনীহা প্রকাশ করলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্থলবাহিনী পাঠানোর সম্ভাবনাও পুরোপুরি নাকচ করেননি। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বে যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে এগোবে কি না—সেটিও পুনর্বিবেচনার বিষয় হতে পারে।