
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে পুরো বিশ্বে। ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করে রাখার ফলে বিঘ্ন হচ্ছে জ্বালানি সরবরাহ, ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে তেলের দাম। এমন পরিস্থিতিতে এই জলপথ নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, এই অবরোধ বেশিদিন স্থায়ী হবে না, খুব দ্রুতই মুক্ত করা হবে হরমুজ প্রণালী।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমার বিশ্বাস, খুব বেশি সময় লাগবে না। আমরা উপকূলে প্রচণ্ড হামলা চালাচ্ছি। মূলত উপকূল আর জলভাগ নিয়েই এই হামলা। এবং এতে খুব বেশি সময় লাগবে না।”
তিনি আরও জানান, ন্যাটোর সদস্য রাষ্ট্রগুলো সরাসরি অংশগ্রহণ না করলেও যুক্তরাষ্ট্র স্বল্প সময়ের মধ্যেই হরমুজ প্রণালিকে ইরানের অবরোধমুক্ত করতে সক্ষম হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর থেকেই হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করে ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনীর বিশেষ শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সতর্ক করে দেয়—এই পথ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের মিত্রদের কোনো জাহাজ চলাচল করলে তা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। যুক্তরাজ্যের সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা বিষয়ক সংস্থার তথ্যমতে, গত ১৭ দিনে অন্তত ১২টির বেশি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এই পরিস্থিতির কারণে হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল কমে গেছে, যার প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। তেল ও গ্যাসের দামও ঊর্ধ্বমুখী।
অবরোধ তুলে দিতে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্তের পাশাপাশি ট্রাম্প মিত্র দেশগুলোকে হরমুজে যুদ্ধজাহাজ ও সেনা পাঠানোর আহ্বান জানান। তবে তার এই প্রস্তাবে ইউরোপ ও এশিয়ার মিত্ররা সাড়া দেয়নি।
তবে মধ্যপ্রাচ্যের কিছু মিত্র দেশ এই উদ্যোগে অংশ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ এবং ইসরায়েল— তারা অসাধারন। ইতোমধ্যেই তারা আমাদের খুব সহযোগিতা করেছে।”
এদিকে, হরমুজ প্রণালীসংক্রান্ত যেকোনো মার্কিন সিদ্ধান্তে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।
এরই মধ্যে মঙ্গলবার হরমুজ উপকূল এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকোম) ব্যাপক বোমাবর্ষণ চালিয়েছে। এতে ইরানের একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
সূত্র: সিএনএন