
ইরানের নতুন দফার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর মধ্য ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে ধ্বংসাবশেষ, যা নিয়ে তৎপরতা শুরু করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী।
বুধবার (১৮ মার্চ) ভোরে স্থানীয় সময় প্রায় ৫টার আগে তেল আবিব জেলার পুলিশ, সীমান্তরক্ষী বাহিনী এবং বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট ঘটনাস্থলগুলোতে উদ্ধার অভিযান চালায়।
পুলিশের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, একাধিক স্থানে ক্ষেপণাস্ত্রের অংশবিশেষ ও বিস্ফোরক সামগ্রীর অবশিষ্টাংশ পড়ে থাকার খবর পাওয়া গেছে। সেগুলো নিরাপদ করতে বিশেষজ্ঞ দল কাজ করছে। এই হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
জরুরি সেবা সংস্থাগুলোর প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, একটি আবাসিক এলাকার সড়কে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে আছে এবং পাশেই একটি গাড়িতে আগুন জ্বলছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই নির্দিষ্ট ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর মেলেনি। তবে সম্ভাব্য বিস্ফোরণ এড়াতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো সাধারণ মানুষের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, এই হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই বুধবার ভোরে ইরানের আরেক দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মধ্য ইসরায়েলে দুইজন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করা হয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা ও সামরিক ব্যক্তিদের ওপর ইসরায়েলের হামলার জবাব হিসেবেই এই ধারাবাহিক আক্রমণ চালানো হচ্ছে। যদিও ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অনেক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে, তবুও সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ জনবসতিপূর্ণ এলাকায় পড়ায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
তেল আবিবসহ আশপাশের এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরান তাদের আক্রমণাত্মক কৌশলের মাধ্যমে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে বড় ধরনের আঘাত হানার বার্তা দিচ্ছে।
এদিকে পাল্টা হামলার প্রস্তুতিও নিচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী বলে জানা গেছে। পাল্টাপাল্টি এই আক্রমণে দুই দেশের বেসামরিক জনগোষ্ঠী চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, আর আন্তর্জাতিক মহলে বাড়ছে বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা। বুধবার ভোরের এই ঘটনায় বড় ধরনের প্রাণহানি না ঘটলেও আগের হামলায় হতাহতের ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে।
সূত্র: সিএনএন