
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে ঘিরে নতুন নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যেখানে নিষিদ্ধ সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগে এক মার্কিন ও ছয় ইউক্রেনীয় নাগরিককে আটক করেছে দেশটির শীর্ষ সন্ত্রাসবিরোধী সংস্থা।
ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ) জানায়, ভারতে অবস্থান করে নিষিদ্ধ গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত থাকার কথা জানিয়েছে মার্কিন দূতাবাস।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) এনডিটিভি-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজন মার্কিন নাগরিক রয়েছেন, যিনি অবৈধভাবে মিয়ানমারে প্রবেশের পরিকল্পনায় ভারতকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি সেখানে জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং ভারতের কিছু নিষিদ্ধ সংগঠনকে প্রশিক্ষণ দিতে চেয়েছিলেন।
মার্কিন দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানায়, ‘আমরা পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত আছি, তবে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার কারণে মার্কিন নাগরিকদের জড়িত কোনো মামলার বিষয়ে মন্তব্য করা সম্ভব নয়।’
অন্যদিকে, ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে আটক বাকি ছয়জন তাদের দেশের নাগরিক। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক মিশনের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে এবং বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া মার্কিন নাগরিকের নাম ম্যাথিউ ভ্যানডাইক। ইউক্রেনীয়দের মধ্যে রয়েছেন হুরবা পেত্রো, স্লিভিয়াক তারাস, ইভান সুকমানোভস্কি, স্তেফানকিভ মারিয়ান, হনচারুক মাকসিম এবং কামিনস্কি ভিক্টর।
দিল্লির একটি বিশেষ আদালত তাদের ১১ দিনের বিচারিক হেফাজতে পাঠিয়েছে। বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনের আওতায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালত জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের স্বার্থে তাদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
এফআইআরের তথ্য অনুযায়ী, এই সাত বিদেশি উত্তর-পূর্ব ভারতের মিজোরাম রাজ্যের সংরক্ষিত এলাকায় গিয়ে সেখান থেকে অবৈধভাবে মিয়ানমারে প্রবেশ করেন। সেখানে তারা জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং ভারতের নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন।
তদন্তে অভিযোগ উঠেছে, তারা এসব গোষ্ঠীকে সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়েছেন, অস্ত্র সরবরাহ করেছেন এবং ড্রোন পরিচালনায় সহায়তা করেছেন—যা ভাড়াটে যোদ্ধা হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।
ঘটনাটির পেছনে আরও বড় নেটওয়ার্ক থাকার ইঙ্গিতও পাওয়া যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, মোট ১৪ জন ইউক্রেনীয় নাগরিক পর্যটক ভিসায় বিভিন্ন সময়ে ভারতে প্রবেশ করেন। তারা আসামের গৌহাটি হয়ে মিজোরামে পৌঁছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই সীমান্ত অতিক্রম করে মিয়ানমারে যান।
তাদের লক্ষ্য ছিল মিয়ানমারের জাতিগত সশস্ত্র সংগঠনগুলোকে প্রশিক্ষণ দেওয়া, যাদের সঙ্গে ভারতের নিষিদ্ধ বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর যোগাযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ইউরোপ থেকে বিপুল সংখ্যক ড্রোন ভারতে এনে সেগুলো মিয়ানমারে পাঠানোর অভিযোগও উঠেছে, যা এসব গোষ্ঠীর ব্যবহারের জন্য সরবরাহ করা হয়েছে।
এদিকে ২০২৫ সালের মার্চে লালদুহোমা জানান, তার সরকার কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছে না, যেখানে রাজ্যে পুনরায় ‘প্রোটেক্টেড এরিয়া পারমিট’ চালু এবং ভারত-মিয়ানমার সীমান্তে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, মিজোরাম গোপনে বিদেশিদের জন্য মিয়ানমারে যাওয়ার ট্রানজিট রুটে পরিণত হয়েছিল, যা কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য উদ্বেগ তৈরি করে। রাজ্য বিধানসভায় তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার বিদেশি মিজোরাম সফর করেন, যাদের অনেকেই প্রকৃত পর্যটক ছিলেন না এবং নীরবে রাজ্য ত্যাগ করেন।