
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিস শহর আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)–এর অভিযানে এক ব্যক্তির নিহত হওয়ার পর। গত শনিবার ফেডারেল বাহিনীর গুলিতে এক ব্যক্তি মারা যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে জোরালো বিক্ষোভ শুরু হয়। এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
স্থানীয় সময় শনিবার সকালে মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল এজেন্টের গুলিতে ৩৭ বছর বয়সী নার্স অ্যালেক্স প্রেটি নিহত হন। এই ঘটনা অনেকের কাছেই আড়াই সপ্তাহ আগে ঘটে যাওয়া আরেকটি প্রাণঘাতী ঘটনার পুনরাবৃত্তি বলে মনে হচ্ছে। সে সময় এক ফেডারেল এজেন্ট রেনি নিকোল গুড নামে এক নারীকে গুলি করে হত্যা করেছিলেন। ধারাবাহিক এই প্রাণহানির ঘটনা, সরকারের বিতর্কিত রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলোর প্রেক্ষাপটে, প্রশাসনের জন্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বিক্ষোভ চলাকালে ফেডারেল বাহিনীর ধরপাকড়, মারধর ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগের ওপর হামলার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আরেক সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। পাশাপাশি, অ্যালেক্স প্রেটির মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছেন একাধিক রিপাবলিকান নেতাও।
এ অবস্থায় মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের গভর্নর টিম ওয়ালজ মিনিয়াপোলিস থেকে আইসিই এজেন্ট প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, মিনিয়াপোলিসে চলমান বিশৃঙ্খলার জন্য ডেমোক্র্যাট নেতাদের দায়ী করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
প্রসঙ্গত, ২০২৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অভিবাসন–সংক্রান্ত সংস্থাগুলোর জন্য ১৭০ বিলিয়ন ডলারের বাজেট অনুমোদন দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই বাজেটের আওতায় চলতি মাসে ৩ হাজার এজেন্ট মোতায়েন করে মিনিয়াপোলিসে ব্যাপক অভিযান চালানো হচ্ছে। এতে হতাহত ও নির্যাতনের অভিযোগ ক্রমেই বাড়ছে। যদিও ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এসব অভিযানের লক্ষ্য অপরাধ দমন; তবে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বড় একটি অংশের বিরুদ্ধেই কোনো ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ নেই।