
নীলনদের পানি বণ্টন ঘিরে মিসর ও ইথিওপিয়ার দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা ভাঙতে আবারও সক্রিয় হওয়ার বার্তা দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে মার্কিন মধ্যস্থতা পুনরায় শুরুর প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিকে পাঠানো এক ব্যক্তিগত চিঠিতে ট্রাম্প জানান, নীলনদের পানি বণ্টন ইস্যুটি দায়িত্বশীলতার সঙ্গে স্থায়ীভাবে সমাধান করতে যুক্তরাষ্ট্র আবারও মধ্যস্থতার ভূমিকা নিতে প্রস্তুত।
ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ওই চিঠিটি প্রকাশ করেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে নীলনদকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট আন্তর্জাতিক সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের পুনরায় সক্রিয় হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে।
মিসর ও ইথিওপিয়ার মধ্যকার উত্তেজনার মূল কারণ আদ্দিস আবাবা নির্মিত ‘গ্র্যান্ড ইথিওপিয়ান রেনেসাঁ ড্যাম’। গত ৯ সেপ্টেম্বর ইথিওপিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে এই বৃহৎ বাঁধের উদ্বোধন করলে নীলনদের নিম্ন অববাহিকার দেশ মিসর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়।
১২ কোটিরও বেশি জনসংখ্যার ইথিওপিয়া মনে করে, নীলনদের একটি উপনদীর ওপর নির্মিত ৫ বিলিয়ন ডলারের এই বাঁধ তাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জ্বালানি চাহিদা পূরণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিপরীতে মিসরের অভিযোগ, এই বাঁধ আন্তর্জাতিক চুক্তি লঙ্ঘন করছে এবং দেশটিতে খরা ও বন্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ইথিওপিয়া শুরু থেকেই এসব অভিযোগ নাকচ করে আসছে।
এর আগেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মিসরীয় প্রেসিডেন্ট সিসির প্রশংসা করেছেন। বিশেষ করে গত অক্টোবরে গাজা সংঘাত সংক্রান্ত একটি চুক্তি সই উপলক্ষে মিসর সফরের সময় তিনি নীলনদ ইস্যুতে মিসরের উদ্বেগের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেন।
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও ওয়াশিংটন এই বিরোধ মেটাতে উদ্যোগ নিয়েছিল, তবে তখন কোনো স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। নতুন করে দেওয়া এই প্রস্তাবের ফলে নীলনদের পানি বণ্টন ইস্যুটি আবারও আন্তর্জাতিক কূটনীতির আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন এখন মিসর ও ইথিওপিয়ার মধ্যে এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ সমঝোতার চেষ্টা করছে, যাতে উভয় দেশের স্বার্থ রক্ষা পায়। আফ্রিকার দ্বিতীয় সর্বাধিক জনবহুল দেশ ইথিওপিয়ার জ্বালানি প্রয়োজন এবং মিসরের পানির নিরাপত্তার মধ্যকার দ্বন্দ্ব নিরসনে এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে—তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। তবে অনেকের মতে, ট্রাম্পের এই মধ্যস্থতার প্রস্তাব দুই দেশের সম্ভাব্য সামরিক উত্তেজনা কমিয়ে আলোচনার পথে ফেরার একটি নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স