
মানবিকতার এক করুণ বিপর্যয়ের সাক্ষী হলো ভারতের বিহারের সীতামার্চি জেলা। সেখানে দ্রুতগামী ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছে ১৩ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্র, আর দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়দের একটি অংশের আচরণ ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ ও আলোড়ন।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকালে পাপরি থানার জাঝিহাট গ্রামে রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি দ্রুতগতির ট্রাক সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিতেশ কুমার গোলুকে সজোরে ধাক্কা দেয়। আঘাতের তীব্রতায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি উল্টে গেলে ভেতরে থাকা বিপুল পরিমাণ মাছ সড়কে ছড়িয়ে পড়ে। একদিকে রিতেশের নিথর দেহ পড়ে ছিল, অন্যদিকে স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠছিল চারপাশ। কিন্তু সেই হৃদয়বিদারক পরিবেশ উপেক্ষা করে স্থানীয় কিছু মানুষ রাস্তায় ছড়িয়ে পড়া মাছ কুড়াতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কেউ অ্যাম্বুলেন্স ডাকার চেষ্টা করেনি কিংবা শোকাহত পরিবারকে সহায়তায় এগিয়ে আসেনি। বরং অনেকেই বস্তায় ভরে মাছ নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি জব্দ করে। পরে লুটপাটকারীদের সরিয়ে দিয়ে নিহত শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।
প্রকাশ্য দিবালোকে একটি শিশুর প্রাণহানির পর মানুষের এমন অমানবিক আচরণ পুরো এলাকায় চরম চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া ও নিন্দার জন্ম দিয়েছে।