
ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর কাছ থেকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদক গ্রহণের বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, এই পদকটি মাচাদো নিজ উদ্যোগেই তাকে উপহার দিয়েছেন এবং তিনি এটিকে পারস্পরিক সম্মান ও সৌজন্যের প্রতীক হিসেবে দেখছেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউসে মাচাদোর সঙ্গে সাক্ষাতের পর ট্রাম্প দাবি করেন, আটটি যুদ্ধ বন্ধে তার ভূমিকা দেখে মুগ্ধ হয়েই মাচাদো তাকে এই সম্মান জানান। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প মাচাদোর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, মাচাদো তাকে বলেছেন, ‘ইতিহাসে আপনার চেয়ে বেশি এই পুরস্কারের যোগ্য আর কেউ নেই’।
হোয়াইট হাউসে রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে মাচাদো বেরিয়ে আসার সময় তার হাতে শুধু ট্রাম্পের স্বাক্ষরসংবলিত একটি ব্যাগ দেখা যায়। পরে সাংবাদিকরা অন্য একজনের নোবেল পদক গ্রহণের বিষয়ে প্রশ্ন করলে ট্রাম্প জানান, মাচাদো আন্তরিকতার সঙ্গেই এটি তাকে দিয়েছেন এবং তার কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেছেন।
ট্রাম্প মাচাদোকে একজন ‘অসাধারণ নারী’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তার এই সৌজন্য ও সম্মানবোধে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। অপরদিকে, মাচাদোও জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার স্বাধীনতার প্রতি ট্রাম্পের দৃঢ় প্রতিশ্রুতির স্বীকৃতি হিসেবেই তিনি নিজের অর্জিত নোবেল পদকটি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে উপহার দিয়েছেন।
এই পদক হস্তান্তরের বিষয়টি আলোচনায় আসার পর নরওয়েজীয় নোবেল কমিটি তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে। শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে কমিটি জানায়, নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদক অন্য কাউকে দেওয়া সম্ভব হলেও পুরস্কারের মর্যাদা বা বিজয়ীর খেতাব কখনোই পরিবর্তন করা যায় না।
নোবেল কমিটি আরও জানায়, কোনো বিজয়ী চাইলে তার পদক বিক্রি করতে, দান করতে বা অন্যকে উপহার দিতে পারেন। তবে ইতিহাসে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী হিসেবে কেবল মারিয়া কোরিনা মাচাদোর নামই থাকবে। পদক অন্যের কাছে থাকলেও বিজয়ীর উপাধি হস্তান্তরযোগ্য বা বাতিলযোগ্য নয়।
কমিটি রাজনৈতিক বিতর্কে না জড়ানোর অবস্থান জানিয়ে উল্লেখ করেছে, একজন বিজয়ী তার পদক, ডিপ্লোমা বা পুরস্কারের অর্থ কীভাবে ব্যবহার করবেন—সে বিষয়ে তাদের কোনো বিধিনিষেধ নেই। তবে মাচাদোর এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতোমধ্যে ব্যাপক আলোচনা, সমালোচনা এবং মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
সমালোচকদের কেউ কেউ ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত লজ্জাজনক’ বলে আখ্যা দিলেও মাচাদোর দাবি, ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর তাদের আস্থা রয়েছে। ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প কতটা সমর্থন দেবেন—তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি।
সূত্র: এনডিটিভি, এপি