
অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে আগামী মার্চ মাস থেকে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান ও ভূখণ্ড দখলের পরিকল্পনা করছে ইসরায়েলি বাহিনী।
টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, তেল আবিব বর্তমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির অধীনে নির্ধারিত ‘ইয়েলো লাইন’ বা হলুদ রেখাকে আরও পশ্চিমে ঠেলে দিতে চায়, যাতে ছিটমহলটির আরও বেশি অংশ তাদের কবজায় আসে। মূলত গাজা সিটিকে কেন্দ্র করে এই অভিযানটি পরিচালিত হবে।
২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর মার্কিন মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি অনুযায়ী বর্তমানে ইসরায়েল গাজার প্রায় ৫৩ শতাংশ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ করছে। হামাসকে নিরস্ত্রীকরণে ব্যর্থতার দোহাই দিয়ে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা এই নতুন আগ্রাসনের নীল নকশা তৈরি করেছেন, যা নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
ইসরায়েলি এই পরিকল্পনার বিপরীতে হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম জানিয়েছেন যে, গোষ্ঠীটি গাজার বেসামরিক প্রশাসনকে একটি নির্দলীয় টেকনোক্র্যাট কমিটির কাছে হস্তান্তর করতে প্রস্তুত। তবে ইসরায়েল বারবার যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করছে এবং গাজার স্থিতিশীলতার জন্য প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক বাহিনী গঠনে বাধা দিচ্ছে বলে হামাস অভিযোগ তুলেছে।
বিশেষ করে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই বাহিনীতে তুরস্কের অংশগ্রহণের কঠোর বিরোধিতা করেছেন। এর ফলে পাকিস্তান, সৌদি আরব, আজারবাইজান ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলো সৈন্য পাঠাতে নিরুৎসাহিত হচ্ছে। হামাস মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোকে ইসরায়েলি এই বানোয়াট অজুহাত ও গুরুতর লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কঠোর নিন্দা জানানোর আহ্বান জানিয়েছে।
গাজার বর্তমান মানবিক পরিস্থিতি এখন চরম শোচনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘ যুদ্ধে ২০ হাজার শিশুসহ ৭১ হাজার ৪০০-এরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে গত তিন মাসেই ইসরায়েলি বাহিনী অন্তত ১ হাজার ২০০ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ৪৩৯ জনকে হত্যা করেছে।
বর্তমানে ঘূর্ণিঝড় বায়রনের প্রভাবে সৃষ্ট বন্যা এবং তীব্র শীতে লাখ লাখ মানুষের জরুরি আশ্রয় প্রয়োজন। ইউএনআরডব্লিউএ প্রধান ফিলিপ লাজারিনি জানিয়েছেন যে, ইসরায়েলি অবরোধ ও বিধিনিষেধের কারণে গাজায় পর্যাপ্ত ত্রাণ পৌঁছাতে পারছে না এবং মানুষ এখন নড়বড়ে, পানিভেদ্য তাঁবুতে বাস করতে বাধ্য হচ্ছে।
ত্রাণ সংস্থাগুলোর ওপর ইসরায়েলের নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। ‘ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স’ (এমএসএফ) সহ প্রায় ৩৭টি সংস্থা সতর্ক করেছে যে, ইসরায়েলি বাধার কারণে যদি তারা গাজা ও পশ্চিম তীরে কাজ করতে না পারেন, তবে লাখ লাখ ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্যসেবা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বেন।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক ঝড়ে ত্রাণবাহী রাস্তাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় খাদ্য ও ঔষধ সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে আরব ও ইউরোপীয় দেশগুলো দাবি জানিয়েছে যেন ইসরায়েল অবিলম্বে ফিলিস্তিনি অঞ্চলগুলোতে মানবিক সংস্থাগুলোর অবাধ প্রবেশের অনুমতি দেয়।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল