
দীর্ঘদিন ধরে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে ইরানে রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং শেষ শাহের পুত্র রেজা পাহলভিকে নেতৃত্বে আনার উদ্দেশ্যে একটি সংগঠিত অনলাইন প্রচারণা চালানো হয়েছে এমন অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে। সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচালিত বিস্তৃত এক ডিজিটাল কার্যক্রমের তথ্য সামনে এসেছে, যেখানে এটিকে পরিকল্পিত ও সম্ভাব্যভাবে ইসরায়েল-সমর্থিত উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
এই অভিযোগের ভিত্তি হিসেবে উঠে এসেছে কানাডার টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিটিজেন ল্যাবের একটি অনুসন্ধান। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর ইসরায়েলের বিমান হামলার সময় তেহরানের এভিন কারাগারকে ঘিরে পারস্য (ফার্সি) ভাষায় ডিপফেক ভিডিও, ভুয়া তথ্য ও প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হয়েছিল। ওই সময় অনলাইন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরাও এই প্রচারণা নেটওয়ার্কের কার্যক্রম শনাক্ত করেন।
ইসরায়েলের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য মার্কার ও হারেৎজ যৌথ অনুসন্ধানে জানায়, পারস্য ভাষার এই বৃহৎ ডিজিটাল প্রচারণার পেছনে পরোক্ষভাবে ইসরায়েলের অর্থায়নের প্রমাণের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। প্রচারণায় রেজা পাহলভির ব্যক্তিত্বকে বিশেষভাবে সামনে আনা হয় এবং ইরানে রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আহ্বান জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়।
রেজা পাহলভি ২০২৩ সালের শুরুতে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক সফরে ইসরায়েল যান। ১৯৭৯ সালে ইসলামী বিপ্লবের পর তার বাবা ক্ষমতাচ্যুত হন এবং ইরানে নতুন শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়।
ওই সফরের সময় ইসরায়েলের তৎকালীন গোয়েন্দা মন্ত্রী ও বর্তমান বিজ্ঞানমন্ত্রী গিলা গামলিয়েল তাকে ‘ইরানের যুবরাজ’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। সফরটি ইসরায়েলি গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার পায়। তখন ইসরায়েলের কর্মকর্তারা বারবার উল্লেখ করেন, তাদের অবস্থান ইরানের জনগণের বিরুদ্ধে নয়, বরং দেশটির সরকারের নীতির বিরোধিতায় সীমাবদ্ধ।
হারেৎজ ও দ্য মার্কারের অনুসন্ধানে আরও বলা হয়, এই অনলাইন কার্যক্রম ছিল একটি বিস্তৃত ডিজিটাল ক্যাম্পেইনের অংশ, যার লক্ষ্য ছিল ইরানি জনগণের কাছে রেজা পাহলভি ও রাজতন্ত্রের পক্ষে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেওয়া। এ কাজে ভুয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট বা ‘অ্যাভাটার’ ব্যবহার করা হয়, যা ইরানি নাগরিকের পরিচয়ে ফেসবুক, এক্স (সাবেক টুইটার) ও ইনস্টাগ্রামে সক্রিয় ছিল।
প্রকল্পটির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত পাঁচটি সূত্র জানিয়েছেন, এই কর্মসূচির জন্য পারস্য ভাষাভাষী ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তাদের মধ্যে তিনজন নিশ্চিত করেছেন যে, তারা নিজের চোখে পাহলভিপন্থি বার্তা ছড়াতে দেখেছেন। কিছু ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করেও এসব বার্তা তৈরি ও প্রচার করা হতো বলে জানা গেছে।