
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও উদীয়মান গায়ক আবু জাহিদ অন্তুর বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন ও শারীরিক আঘাতের অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পায়নি পুলিশ। দীর্ঘ তদন্ত শেষে আদালতে দাখিল করা চূড়ান্ত প্রতিবেদনে অন্তুকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে মিথ্যা মামলা করার অভিযোগে বাদী জান্নাতুন তাজরি অরার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুমতি চেয়েছে তদন্তকারী পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কে এম রাশিদুর রহমান গত ৩১ জুলাই আদালতে এ প্রতিবেদন দাখিল করেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন আদালত।
মামলার সূত্রপাত ২০২৫ সালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে গিটার শেখার সুবাদে গায়ক অন্তু ও ইডেন কলেজের শিক্ষার্থী এবং মডেল জান্নাতুন তাজরি অরার পরিচয় হয়। পরে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠলেও একপর্যায়ে বিচ্ছেদ ঘটে।
এরপর গত ৩১ মে গুলশান থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন অরা। তাঁর অভিযোগ, গত ২ মে পণ্যের ফটোশুটের কথা বলে গুলশানের একটি ফ্ল্যাটে ডেকে নিয়ে তাঁকে যৌন নিপীড়ন ও মারধর করেন অন্তু।
তবে তদন্তে অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অরা অন্তুকে প্রেমের প্রস্তাব দিলেও তিনি তাতে রাজি হননি। পরে তাঁদের মধ্যে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। একপর্যায়ে অন্তুর গুলশানের বাসার স্টুডিওতে পণ্যের ফটোশুটের প্রস্তাব পেয়ে সেখানে যেতে সম্মত হন অরা।
তদন্তে উঠে আসে, গত ২ মে সকালে অন্তুর বাসায় গিয়ে তাঁকে পাননি অরা। বিকেলে তাঁদের দেখা হয় এবং বাসার অফিসকক্ষে বসে কথা বলেন। কিছুক্ষণ পর অন্তু নিজের মোবাইল ফোন চার্জে রেখে নিচে যান। এ সময় ফোনে একটি কল এলে অরা সেটি রিসিভ করে নিজেকে অন্তুর স্ত্রী বলে পরিচয় দেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি জানার পর অন্তু উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে এর কারণ জানতে চান। এতে অপমানিত বোধ করেন অরা। তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, এ ঘটনার পর ক্ষোভ থেকে তিনি অন্তুর বিরুদ্ধে মামলা করেন।
তদন্তের অংশ হিসেবে বাদী ও বিবাদীর কল রেকর্ড (সিডিআর), ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ এবং নিরপেক্ষ সাক্ষীদের বক্তব্য পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে অরার শারীরিক পরীক্ষা করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব তথ্য-প্রমাণে যৌন নির্যাতন বা শারীরিক আঘাতের অভিযোগের সমর্থনে কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদনে অন্তুকে অব্যাহতির সুপারিশের পাশাপাশি বাদী অরার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৭ ধারায় প্রসিকিউশন দাখিলের অনুমতি চাওয়া হয়েছে।
এদিকে, মামলার কারণে সামাজিক ও ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গায়ক আবু জাহিদ অন্তু। তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার পরও তাঁর হয়রানি ও ক্ষতির দায় কে নেবে—এমন প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ না পাওয়ায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত আদালত নেবেন।