
বড় প্রত্যাশা নিয়েই প্রেক্ষাগৃহে এসেছে ডিজনির নতুন লাইভ-অ্যাকশন চলচ্চিত্র ‘মোয়ানা’, তবে মুক্তির প্রথম সপ্তাহান্তে বক্স অফিসে প্রত্যাশিত সাড়া পায়নি ছবিটি। উত্তর আমেরিকার বাজারে সিনেমাটি আয় করেছে ৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার, যা প্রাথমিক পূর্বাভাসের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
ভ্যারাইটিসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় ছবিটির প্রথম সপ্তাহান্তের আয় ৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার। অথচ বিশ্লেষকদের ধারণা ছিল, উদ্বোধনী সপ্তাহান্তেই এর আয় ৬ থেকে সাড়ে ৬ কোটি ডলারের মধ্যে থাকবে।
প্রায় ২৫ কোটি ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই লাইভ-অ্যাকশন চলচ্চিত্রটি বিশ্বব্যাপী প্রথম সপ্তাহান্তে মোট ৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার আয় করেছে। যদিও আয় প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি, তবু একই সময়ে বড় কোনো পারিবারিক চলচ্চিত্র প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় বক্স অফিসের শীর্ষস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে এটি।
ডিজনির অন্যতম জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবে ‘মোয়ানা’ দীর্ঘদিন ধরেই দর্শকদের কাছে পরিচিত। ২০১৬ সালে মুক্তি পাওয়া অ্যানিমেটেড সংস্করণটি বিশ্বজুড়ে ৬৪ কোটি ৩০ লাখ ডলারের বেশি আয় করেছিল। পাশাপাশি এটি ডিজনি প্লাসের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি দেখা সিনেমাগুলোর একটি।
এর ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে মুক্তি পাওয়া সিক্যুয়েল বিশ্বব্যাপী ১০০ কোটি ডলারের বেশি আয় করে। এছাড়া ‘মোয়ানা’কে ঘিরে ২ কোটি ২০ লাখেরও বেশি খেলনা বিক্রি হয়েছে এবং ডিজনির বিভিন্ন থিম পার্কেও চরিত্রটির উপস্থিতি রয়েছে।
তবে নতুন লাইভ-অ্যাকশন সংস্করণের তুলনামূলক দুর্বল উদ্বোধনী আয়কে বিশ্লেষকেরা দর্শকদের আগ্রহে কিছুটা ভাটা পড়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, এক দশকেরও কম সময়ে ‘মোয়ানা’কে কেন্দ্র করে একাধিক বড় প্রকল্প আসায় দর্শকদের মধ্যে কিছুটা ক্লান্তি তৈরি হয়ে থাকতে পারে।
তবে ভবিষ্যৎ আয় নিয়ে এখনই হতাশ হওয়ার কারণ দেখছেন না বাজার বিশ্লেষকেরা। তাদের ধারণা, গ্রীষ্ম মৌসুমের শেষভাগে মুক্তি পাওয়া বড় পারিবারিক চলচ্চিত্র হওয়ায় আগামী কয়েক সপ্তাহেও ছবিটি ভালো ব্যবসা করতে পারে। বিশেষ করে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি চলমান থাকায় পারিবারিক দর্শকদের আকর্ষণ করার সুযোগ এখনও রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে মুক্তি পাওয়া ডিজনির **‘মুফাসা: দ্য লায়ন কিং’**ও প্রথম সপ্তাহান্তে মাত্র ৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার আয় করেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিনেমাটি বিশ্বব্যাপী ৭২ কোটি ২০ লাখ ডলারের বেশি আয় করতে সক্ষম হয়।