
দেশ পুনর্গঠনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের আস্থা ও সমর্থন থাকলে বিএনপিকে দেশের উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাওয়া থেকে কোনো বাধাই থামাতে পারবে না। একই সঙ্গে তিনি দল-মত, ধর্ম ও শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়েই দেশ গড়ার প্রত্যয়ের কথাও তুলে ধরেন।
সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোরে ফ্যামিলি কার্ডধারী নারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এই দেশকে পুনর্গঠন করতে চাই, সামনে এগিয়ে নিতে চাই। বিএনপির সব রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস জনগণ। যতদিন জনগণের সমর্থন বিএনপির সঙ্গে থাকবে, ততদিন কোনো বাধা আমাদের থামাতে পারবে না।’ তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শ, ধর্ম কিংবা পেশাগত পরিচয় নির্বিশেষে সব নাগরিককে সম্পৃক্ত করেই দেশের অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করতে চায় সরকার।
অনুষ্ঠানে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের অভিজ্ঞতার কথাও শোনেন প্রধানমন্ত্রী। উপকারভোগী পারুল আখতার জানান, ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার পর তার পরিবারের আর্থিক সংকট অনেকটাই কমেছে এবং তিনি এর সুফল ভোগ করছেন। ভবিষ্যতেও এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ বোনদের কাছ থেকে শুনলাম, ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার পর তাদের সংসার পরিচালনায় কিছুটা হলেও স্বস্তি এসেছে। আমাদের লক্ষ্যই হচ্ছে দেশের মা-বোনদের জীবনমানের উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো।’
দেশব্যাপী পর্যায়ক্রমে সব নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে সরকারের পাশাপাশি জনগণের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, ‘নারী সমাজ যদি সরকারের পাশে থাকে, তাহলে আমরা পর্যায়ক্রমে সারা দেশে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে পারব। এই কর্মসূচির মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। নারীরা যেমন শিক্ষায় এগিয়ে যাবেন, তেমনি অর্থনৈতিকভাবেও আরও শক্তিশালী হবেন।’
সরকারের উন্নয়ন ভাবনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘করব কাজ, গড়ব দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ। সবার জন্য একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য।’
ধর্মীয় সম্প্রীতির বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষ যুগ যুগ ধরে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছে। ভবিষ্যতেও কোনো ধরনের বিভেদ নয়, মানবিকতার ভিত্তিতে সবাইকে সঙ্গে নিয়েই দেশ পুনর্গঠন করতে চায় সরকার।’
মতবিনিময় সভায় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। গৌরনদীর কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী বরিশাল নগরের উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে সিটি করপোরেশন এলাকার ত্রিশ গোডাউন বধ্যভূমি-সংলগ্ন সাগরদী খালপাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।