
বিশ্ব সংগীত দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজিত দুই দিনব্যাপী বিশেষ উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে সংগীতের সামাজিক ও রাজনৈতিক শক্তির কথা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।
সোমবার (২২ জুন) রাজধানীর জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “সংগীতের মধ্যে যে বিপুল শক্তি নিহিত রয়েছে, তা যুগে যুগে বিভিন্ন সংগ্রামে বিস্ফোরিত হতে দেখা গেছে। স্বাধীনতা সংগ্রাম, গণতন্ত্রের সংগ্রাম কিংবা অধিকারের আন্দোলন—সব ক্ষেত্রেই সংগীতের অভূতপূর্ব শক্তি আমরা প্রত্যক্ষ করেছি।”
তিনি আরও বলেন, “বাহান্নর ভাষা আন্দোলন, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণআন্দোলন কিংবা চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান—প্রতিটি আন্দোলনেই সংগীত মানুষের প্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করেছে।”
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক বলেন, বর্তমান সরকার একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছে, যেখানে সব শ্রেণি-পেশা ও সংস্কৃতির মানুষ একসঙ্গে এগিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, “আমরা সংস্কৃতিকে সৃজনশীল অর্থনীতির অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটিয়ে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করাই আমাদের লক্ষ্য।”
কানিজ মওলা-র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এমরান সালেহ প্রিন্স। এছাড়া সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস)-এর সদস্য সচিব জাকির হোসেন রোকন।
আলোচনা শেষে অনুষ্ঠিত সাংস্কৃতিক পর্বে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীরা সমবেত কণ্ঠে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর গান পরিবেশন করেন। পরে একক সংগীত পরিবেশন করেন সুকন্যা মজুমদার, তানভীর আলম সজীব, মুন্নি কাদের, ডলি মণ্ডল, নওসীন তাবাসসুম স্মরণ, পিন্টু ঘোষ, রাকা পপি, শাহনাজ রহমান স্বীকৃতি ও দেবলীনা সুর।