পহেলা বৈশাখকে ঘিরে আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল থেকেই দেশজুড়ে উৎসবের ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা শহর পর্যন্ত কনসার্ট, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর বৈশাখী আয়োজনে মুখর চারদিক। নতুন বছরকে বরণ করতে যেন একসঙ্গে গান ধরেছে পুরো বাংলাদেশ, আর সেই সুরেই দুলছে নগর থেকে গ্রাম।
রাজধানীতে সবচেয়ে বেশি আলোচনা কাড়ছে ‘কোক স্টুডিও বাংলা’র বিশেষ কনসার্ট। বিকেল থেকেই মাদানি অ্যাভিনিউ এলাকায় বসছে এই জমজমাট গানের আসর, যেখানে জনপ্রিয় ও নতুন শিল্পীরা একসঙ্গে মঞ্চে উঠছেন। টিকিট কেটে ঢোকা দর্শকদের ভিড় আর আগ্রহ দেখে বোঝাই যাচ্ছে, এ আয়োজন নিয়ে আগে থেকেই উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে।
ব্যান্ড সংগীতেও আজ যেন আগুন ঝরছে। নগরবাউল জেমস পাবনার এডওয়ার্ড কলেজ মাঠে গাইছেন, আর একই দিনে ঢাকায় একের পর এক শো নিয়ে ব্যস্ত শিরোনামহীন ও ওয়ারফেজ। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলো যেন পরিণত হয়েছে ছোট ছোট কনসার্ট ভেন্যুতে, যেখানে তরুণদের ঢল আর গানের তালে তালে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে।
চিরকুটও পিছিয়ে নেই। সকাল থেকে দুপুর, দুই দফায় দুই বিশ্ববিদ্যালয়ে গান শুনিয়ে তরুণদের মাতিয়ে তুলছে তারা। অন্যদিকে গাজীপুর, ধানমন্ডি আর উত্তরায় ছুটে বেড়াচ্ছে অ্যাশেজ, যেন এক দিনে পুরো শহর দখল করে নেওয়ার মিশনেই নেমেছে তারা।
দীর্ঘ বিরতির পর আবারও একক কনসার্ট নিয়ে মঞ্চে ফিরছে জনপ্রিয় বাংলা ব্যান্ড মেঘদল। পহেলা বৈশাখকে ঘিরে বিশেষ এই আয়োজনে তারা পরিবেশন করবে ‘ঝড়ো সময়ে গান’। আজ ঢাকার তেজগাঁওয়ের ইয়ামাহা ফ্ল্যাগশিপ সেন্টারের অডিটোরিয়ামে বসছে এই সংগীতের আসর।
শুধু কনসার্টেই সীমাবদ্ধ নেই উৎসব। বনানী, গুলশান আর তেজগাঁওজুড়ে চলছে বাউলগান, পুতুলনাচ, সার্কাস আর লোকজ পরিবেশনা। কোথাও মেলা, কোথাও খোলা মঞ্চে নাচ-গান, আবার কোথাও পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা মানুষের ভিড়ে জমে উঠেছে বৈশাখী আবহ। শহরের পার্ক আর সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলো যেন একদিনের জন্য রঙিন মেলার মাঠে পরিণত হয়েছে।
এর মাঝেই নতুন গান আর মিউজিক ভিডিও নিয়ে হাজির হয়েছেন শিল্পীরা। অনলাইনে মুক্তি পাচ্ছে নতুন কনটেন্ট, যা তরুণদের উৎসবের আনন্দে নতুন মাত্রা যোগ করছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলা এসব আয়োজন সরাসরি সম্প্রচারেও চোখ রাখছে দর্শক, ফলে ঘরে বসেও কেউ বাদ পড়ছে না এই আনন্দ থেকে।
সব মিলিয়ে আজকের বাংলাদেশ যেন এক বিশাল মঞ্চ, যেখানে প্রতিটি কোণায় বাজছে গান, চলছে নাচ আর ছড়িয়ে পড়ছে উৎসবের উচ্ছ্বাস। নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে বাঙালির এই প্রাণখোলা উদযাপন যেন প্রমাণ করে, যত ব্যস্ততাই থাকুক, বৈশাখ এলেই সবাই এক সুরে মিলে যায়।