
স্কুল থেকে ফিরে এসে টিভির সামনে বসে ডোরেমন-নোবিতার জাদুময় জগতে হারিয়ে যাওয়া শৈশবের সেই সোনালি দিনগুলো মনে পড়ছে কি? সেই নীল রোবট বিড়াল এবং তার বন্ধুরা দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ইন্দোনেশিয়ার শিশু ও তরুণদের আনন্দের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল।
তবে এবার দুঃসংবাদ। ইন্দোনেশিয়ার জনপ্রিয় চ্যানেল রাজাওয়ালি চিত্র টেলিভিশন (RCTI) ২০২৬ সালের শুরু থেকে তাদের সম্প্রচারসূচি থেকে ‘ডোরেমন’ সরিয়ে দিয়েছে। অর্থাৎ ইন্দোনেশিয়ার দর্শক আর টিভিতে ডোরেমন, নোবিতা বা সিজুকাদের দেখতে পাবেন না।
নব্বইয়ের দশকের শুরু থেকে ইন্দোনেশিয়ার ঘরে ঘরে ডোরেমন ছিল একটি পরিবারের অংশ। নোবিতার ভুল, জিয়ান-সুনিওর দুষ্টুমি এবং ডোরেমনের জাদুকরী গ্যাজেট শুধু আনন্দ দেয়নি, বন্ধুত্ব ও দায়িত্ববোধও শেখিয়েছে। তবে চ্যানেলের এই পদক্ষেপে কোটি কোটি ভক্তের মধ্যে হতাশা ছড়িয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনরা শৈশবের স্মৃতি হারানোর আক্ষেপ প্রকাশ করছেন।
যদিও ইন্দোনেশিয়ার চ্যানেল থেকে সম্প্রচার বন্ধ হলেও বিশ্বজুড়ে ডোরেমন এখনও বেঁচে আছে। জাপানের ‘আসাহি’ চ্যানেলে ডোরেমনের নতুন এপিসোডগুলো নিয়মিত দেখানো হচ্ছে। ২০০৫ সালে শুরু হওয়া ‘নিউ ডোরেমন’ সিরিজটি সফলভাবে চলছে এবং বন্ধ করার কোনো ঘোষণা আসেনি।
সঙ্গে, ২০২৫ সালের আগস্টে মুক্তি পেয়েছে ‘ডোরেমন দ্য মুভি: নোবিতা’স পিকচার ওয়ার্ল্ড স্টোরি’। অর্থাৎ, ভক্তরা হয়তো স্থানীয় টিভিতে ডোরেমন দেখতে পাচ্ছেন না, কিন্তু জাদুকরী পকেটের এই নীল রোবট এখনো জাপানের এনিমেশন জগতে রাজত্ব করছে।