
হাম সংক্রমণ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে উদ্বেগ বাড়লেও প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ বা অনলাইন ক্লাস চালুর কোনো পরিকল্পনা নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন সরকার।
সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও পাঠদান কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য নিশ্চিত করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
তিনি জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে মন্ত্রণালয় অনলাইন পদ্ধতিতে পাঠদান চালুর কথা ভাবছে না। বরং শিক্ষার্থীদের সশরীরে উপস্থিতির মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পক্ষেই সরকারের অবস্থান রয়েছে। বিদ্যালয় বন্ধের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি এবং স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী জুন-জুলাই মাসে শিক্ষা খাতে বেশ কিছু নতুন ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের প্রস্তুতি এবং বিদ্যালয়গুলোর বর্তমান অবস্থা মূল্যায়নের অংশ হিসেবেই তিনি এই আকস্মিক পরিদর্শন করছেন।
পরিদর্শনের সময় তিনি বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি, শিক্ষক, অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের নানা সমস্যা ও অভিজ্ঞতা শোনেন। বিশেষভাবে শিক্ষার্থীদের মধ্যাহ্নভোজ কর্মসূচি ও সার্বিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেন। তিনি উল্লেখ করেন, অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার মান নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
বিদ্যালয়ের পরিবেশ উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছে। সম্প্রতি দেশে হাম রোগের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাড়তি সতর্কতা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে পরিস্থিতি এখনো এমন পর্যায়ে পৌঁছায়নি, যাতে বিদ্যালয় বন্ধ করতে হয়।
তিনি শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান, নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ে শিক্ষা দিতে। জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিষয়টি মাথায় রেখেও শিক্ষা কার্যক্রম যেন ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন শিক্ষা তেমন কার্যকর নয়। তাই সরাসরি শ্রেণিকক্ষে পাঠদানই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। তিনি অভিভাবকদের আশ্বস্ত করে বলেন, শিশুদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং পরিস্থিতির অবনতি হলে বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বর্তমানে নিয়মিত শ্রেণিকক্ষ কার্যক্রম চালু রাখার পাশাপাশি নতুন শিক্ষাক্রম ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। নিয়মিত এই পরিদর্শনের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তুলে ধরা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।