
দেশের অন্যতম শীর্ষ বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা পর্ষদে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিংবা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের বেআইনি বা অযাচিত হস্তক্ষেপ করা হয়নি বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। একই সাথে ব্যাংকের তারল্য ও গ্রাহকদের আমানত সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছে বলেও আমানতকারীদের আশ্বস্ত করেছেন তিনি।
গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) আয়োজিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে গভর্নর এই মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ব্যাংকটির দৈনন্দিন ঋণ অনুমোদন, লোকবল নিয়োগ কিংবা পদোন্নতির মতো অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কোনো রকম অন্যায্য বা অযাচিত হস্তক্ষেপ করেনি।
গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান জানান, দেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে সর্বমোট পাঁচজন সদস্য দায়িত্ব পালন করছিলেন। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে একজন সদস্যের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অনিয়মের অভিযোগ উত্থাপিত হওয়ায় চলতি বছরের গত ১৬ মার্চ তাকে পর্ষদ থেকে পরিবর্তন বা অপসারণ করা হয়।
ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন গুঞ্জনকে নাকচ করে দিয়ে গভর্নর আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাংকটির ওপর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার যে সমস্ত অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য।
সম্প্রতি পবিত্র ঈদুল আজহার আগে ব্যাংকটির তৎকালীন চেয়ারম্যানের আকস্মিক পদত্যাগের বিষয়টি উল্লেখ করে গভর্নর জানান, ইসলামী ব্যাংকের মতো একটি বৃহৎ ও 'সিস্টেমিক' আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কর্মকাণ্ড সচল ও গতিশীল রাখতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকের ন্যূনতম পরিচালনা কাঠামো বা চেইন অব কমান্ড বজায় রাখার স্বার্থেই এই জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন ছিল।
গ্রাহকদের ব্যাংকিং লেনদেন ও জমানো টাকার নিরাপত্তা নিয়ে গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, "আমানতকারীদের উদ্বেগের কারণ নেই।"
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসলামী ব্যাংকের আমানত সম্পূর্ণ সুরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে এবং সম্মানিত গ্রাহকেরা তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো সময় ব্যাংক থেকে নিজেদের অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন।
আর্থিক সূচকের বিবরণ দিয়ে গভর্নর তথ্য দেন যে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ইসলামী ব্যাংকের অ্যাডভান্স-ডিপোজিট রেশিও (এডিআর) বা ঋণ-আমানত অনুপাত ছিল প্রায় ৯৩ শতাংশ। যা চলতি ২০২৬ সালের মার্চ মাসে আরও বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৯৮ শতাংশে গিয়ে পৌঁছায়। বর্তমান এই এডিআর বা ঋণ বিতরণের হার স্বাভাবিক আর্থিক সীমার চেয়ে কিছুটা বেশি হলেও সামগ্রিক পরিস্থিতি পুরোপুরি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে তিনি সংবাদ সম্মেলনে নিশ্চিত করেন।