
দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ বিনিয়োগকারী ও বাজারসংশ্লিষ্টদের তীব্র সমালোচনা ও আন্দোলনের মুখে অবশেষে পদত্যাগ করেছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ। তাঁর সঙ্গে একযোগে পদত্যাগ করেছেন কমিশনের চার কমিশনারও।
আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) তাঁরা অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে নিজ নিজ পদত্যাগপত্র জমা দেন।
এর মধ্য দিয়ে মাত্র ১০ মাস আগে গঠিত ‘রাশেদ মাকসুদ কমিশন’-এর কার্যত অবসান ঘটল। বিতর্কিত এই কমিশনের বিদায়ের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক স্বস্তি ও উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে।
খন্দকার রাশেদ মাকসুদ ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট চার বছরের মেয়াদে বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। তাঁর নেতৃত্বাধীন কমিশনে ২০২৪ সালের ২ জুন মু. মোহসীন চৌধুরী, ২৮ আগস্ট মো. আলী আকবর এবং ৩ সেপ্টেম্বর ফারজানা লালারুখ কমিশনার হিসেবে যোগ দেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২৯ জুলাই সর্বশেষ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেন মো. সাইফুদ্দিন।
দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই পুঁজিবাজারে টানা দরপতন, বিনিয়োগকারীদের চরম আস্থা সংকট, বাজার উন্নয়নে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়া এবং ত্রুটিপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে শুরু থেকেই খন্দকার রাশেদ মাকসুদ তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন। সম্প্রতি তাঁর পদত্যাগের দাবিতে বিএসইসির নিজস্ব কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও নজিরবিহীন কর্মবিরতি ও আন্দোলন শুরু করেন। একই সঙ্গে সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও দীর্ঘদিন ধরে রাস্তায় নেমে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন।
গত মঙ্গলবার (২ জুন) রাজধানীতে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘বাজেট ২০২৬-২৭: প্রত্যাশা ও বাস্তবতা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে দেশের পুঁজিবাজারের স্বার্থে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি পুনর্গঠন করা হবে। মন্ত্রীর সেই হুঁশিয়ারি ও আলটিমেটামের দুই দিনের মাথায় আজ বৃহস্পতিবার চেয়ারম্যানসহ পুরো কমিশনের সদস্যরা একযোগে পদত্যাগ করতে বাধ্য হলেন।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, এই কমিশনের একযোগে পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের শেয়ারবাজারের একটি স্থবির ও বিতর্কিত অধ্যায়ের অবসান হলো। দীর্ঘদিনের ধস ও রক্তক্ষরণ কাটিয়ে পুঁজিবাজারে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, জালিয়াতি চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে সরকার এখন একটি দক্ষ, অভিজ্ঞ ও নিরপেক্ষ নতুন কমিশন গঠন করবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন দেশের লাখো বিনিয়োগকারী।