নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি আর লাগামহীন মূল্যস্ফীতির বাজারে সাধারণ মানুষের পকেটে বড় ধরনের কোপ দিয়ে আবারও বাড়ানো হলো খুচরা বিদ্যুতের দাম। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ভোক্তা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ভারিত গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বৃদ্ধির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৫২ পয়সা হারে বাড়ছে।
গতকাল মঙ্গলবার (২ জুন) কমিশনের পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত দাপ্তরিক আদেশ জারির পর আজ বুধবার (৩ জুন) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত বিইআরসি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন এই মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দেওয়া হয়।
ঘোষণা অনুযায়ী, বিদ্যুতের এই নতুন বর্ধিত দর চলতি জুন মাসের ব্যবহূত বিল থেকেই কার্যকর হতে যাচ্ছে। এর ফলে খুচরা পর্যায়ে প্রতি ইউনিট (কিলোওয়াট-ঘণ্টা) বিদ্যুতের ভারিত গড় মূল্য ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে একলাফে বেড়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সায় গিয়ে দাঁড়াচ্ছে।
কমিশনের এই চূড়ান্ত মূল্যবৃদ্ধির পরিমাণ বিইআরসির নিজস্ব কারিগরি মূল্যায়ন কমিটির (টিইসি) প্রাথমিক সুপারিশের চেয়েও বেশি। দেশের প্রধান বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জমা দেওয়া আর্থিক সমন্বয় প্রস্তাব বিশদ পর্যালোচনার পর টিইসি ইউনিটপ্রতি ভারিত গড়ে ১ টাকা ২৫ পয়সা বাড়ানোর প্রাথমিক সুপারিশ করেছিল। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে তা ছাড়িয়ে গেল।
মূল্যায়ন কমিটির তৈরি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নতুন এই মূল্য সমন্বয়ের ফলে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বিদ্যুৎ খাতের ব্যয় অনেকটাই কমে আসবে। এর সুবাদে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে সরকারের প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকার বিশাল ভর্তুকি সাশ্রয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের মে মাসের শুরুর দিকে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি), পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বিআরইবি), ডিপিডিসি, ডেসকো, ওজোপাডিকো এবং নেসকোসহ দেশের সব রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থাগুলো দাম বাড়ানোর আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পেশ করে। সেই প্রস্তাবের ওপর গত ২০ ও ২১ মে দুই দিনব্যাপী গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত শুনানি ও সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়নের পরই কমিশন গ্রাহক পর্যায়ে নতুন এই মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেয়।