
দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক চাপের প্রভাব এবার সরাসরি ধাক্কা দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব আদায়ে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ব্যবসায়িক ব্যয় বৃদ্ধি এবং ভোক্তা খরচ কমে যাওয়ায় রাজস্ব সংগ্রহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসেই ঘাটতি ছাড়িয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি।
বুধবার (২০ মে) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, আলোচ্য সময়ে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ছিল ৪ লাখ ৩১ হাজার ৪২১ কোটি টাকা, কিন্তু আদায় হয়েছে ৩ লাখ ২৬ হাজার ৯২৮ কোটি টাকা। ফলে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৫৩৩ কোটি টাকার বেশি।
তবে ঘাটতি থাকলেও আগের বছরের তুলনায় সামগ্রিক রাজস্ব আদায়ে ১০ দশমিক ৬০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে বলে জানায় এনবিআর। গত অর্থবছরের একই সময়ে আদায় ছিল ২ লাখ ৯৫ হাজার ২০০ কোটি টাকা।
খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, শুল্ক, মূসক ও আয়কর—সব ক্ষেত্রেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। তবে প্রবৃদ্ধির দিক থেকে শুল্কে ৮ দশমিক ৮৭ শতাংশ, আয়করে ১১ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং মূসকে ১১ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
চলতি বছরের এপ্রিল মাসেও লক্ষ্য অনুযায়ী রাজস্ব আদায় হয়নি। এ মাসে লক্ষ্য ছিল ৪৫ হাজার ৬০৮ কোটি টাকা, কিন্তু আদায় হয়েছে ৩৯ হাজার ৬০ কোটি টাকা। যদিও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এপ্রিল মাসে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।
খাতভিত্তিক এপ্রিলে শুল্ক ও আয়করে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি থাকলেও মূসকে ৩ দশমিক ১৭ শতাংশ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছে, যা সামগ্রিক রাজস্ব ব্যবস্থার চাপকে আরও স্পষ্ট করছে।