
বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর নতুন উদ্যোগকে ঘিরে আবারও উদ্বেগ বাড়ছে শিল্প ও ভোক্তা মহলে। এবার ইউনিটপ্রতি বিদ্যুতের সঞ্চালন চার্জ প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ। একই সঙ্গে পাইকারি পর্যায়েও বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব আসায় নতুন করে চাপের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে সাধারণ গ্রাহক ও উৎপাদন খাতে।
বুধবার (২০ মে) রাজধানীর কেআইবি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে বিদ্যুতের সঞ্চালন চার্জ ইউনিটপ্রতি ৩০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪৯ পয়সা করার প্রস্তাব উপস্থাপন করে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ। অর্থাৎ প্রতি ইউনিটে অতিরিক্ত ১৯ পয়সা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
একই শুনানিতে পাইকারি বিদ্যুতের দামও ইউনিটপ্রতি দেড় টাকা বা প্রায় ২১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দেয় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড।
সংস্থাটির প্রধান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম বলেন, চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে সম্ভাব্য ঘাটতি প্রায় ৬২ হাজার কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে সেই ঘাটতি ৬৫ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। তার দাবি, বিদ্যুতের দাম সমন্বয় না করা হলে পুরো খাত বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকিতে পড়বে।
তবে শুনানিতে অংশ নেওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, ভোক্তা অধিকার সংগঠন এবং অংশীজনরা এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেন। তাদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ খাতের দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের দায় শেষ পর্যন্ত সাধারণ গ্রাহকের ওপর চাপানো হচ্ছে।
অংশীজনদের অনেকে বলেন, বাজারে নিত্যপণ্যের দাম এমনিতেই চাপে রেখেছে মানুষকে। এর মধ্যে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়বে। একই সঙ্গে শিল্প ও উৎপাদন খাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
গণশুনানিতে কয়েকজন বক্তা উল্টো বিদ্যুতের দাম কমানোর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান। তাদের ভাষায়, সেবার মান না বাড়িয়ে কেবল মূল্যবৃদ্ধির পথে হাঁটলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২১ মে) গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর আবেদনের ওপরও পৃথক গণশুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।