
এক দশক পার হলেও থামছে না বিলম্ব। বাংলাদেশ ব্যাংকের আলোচিত রিজার্ভ চুরির মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা আবারও বাড়িয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে সেদিন তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রায়হান উদ্দিন খান প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হন। এ কারণে তদন্ত সংস্থার পক্ষ থেকে আদালতের কাছে সময় চেয়ে আবেদন করা হয়।
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি তারিখ নির্ধারণ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) রোকনুজ্জামান।
এই নতুন তারিখ নির্ধারণের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন জমার সময়সীমা মোট ৯২ বার পেছাল।
মামলার নথিতে উল্লেখ আছে, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অজ্ঞাতপরিচয় হ্যাকাররা নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে ১০১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সরিয়ে নেয়। এর মধ্যে ৮১ মিলিয়ন ডলার ফিলিপাইনের আরসিবিসি ব্যাংকের চারটি অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয় এবং বাকি ২০ মিলিয়ন ডলার পাঠানোর চেষ্টা করা হয় শ্রীলঙ্কার একটি ব্যাংকে।
তবে হ্যাকারদের বানান ভুলের কারণে শ্রীলঙ্কায় ২০ মিলিয়ন ডলার পাঠানোর সেই চেষ্টা সফল হয়নি। পরে ফিলিপাইন থেকে প্রায় ১৫ মিলিয়ন ডলার উদ্ধার করতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ ব্যাংক।
এই ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন উপপরিচালক (হিসাব ও বাজেটিং) জোবায়ের বিন হুদা ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ মতিঝিল থানায় মামলা করেন। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
এর আগে, গত ২১ সেপ্টেম্বর সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ বলেন, "বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মামলায় ফিলিপাইনের আরসিবিসি ব্যাংকের ৮১ মিলিয়ন ডলার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দ্রুততম সময়ে এই অর্থ বাংলাদেশে ফেরত আনা হবে।"