
দেশের ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত নাম সাইফুল আলম মাসুদ (এস আলম)। বিভিন্ন সময়ে ব্যাংক দখল, ঋণ জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগে সমালোচিত এই ব্যবসায়ীকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, তার প্রভাব ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যাংকে অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া কিছু কর্মকর্তা নিজেদের অবস্থান রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।
আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে এসব কর্মকর্তা মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা দাবি করেন, তাদের নিয়োগ বৈধ এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কারণে তাদের চাকরি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। তারা দ্রুত বিষয়টি সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। মানববন্ধনের কারনে সকাল ৮ টা থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত পুরো মতিঝিল,দৈনিকবাংলা মোড়, ফকিরাপুল সহ তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
.jpeg)
তবে ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, এসব নিয়োগের পেছনে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক প্রভাব কাজ করেছে। অভিযোগ রয়েছে, এ আলম গ্রুপের প্রভাব ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যাংকে নিয়মবহির্ভূতভাবে কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে ব্যাংকিং খাতে শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসেবে এসব নিয়োগ পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীর জানায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং হঠাৎ করে তাদের অবৈধ আখ্যা দিয়ে চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়া হলে তারা চরম আর্থিক ও সামাজিক সমস্যায় পড়বেন। তাই তারা তাদের চাকরি বহাল রাখার দাবি জানান।
অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, ব্যাংকিং খাতকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে হলে অবৈধ নিয়োগ ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এজন্য সরকারের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক-এর সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা।
এসময় মোহাম্মদ রমজান নামে চাকরিচ্যুত একজন বলেন, তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি কক্ষে অনানুষ্ঠানিক নিয়োগ পরিক্ষার মাধ্যমে সহকারী অফিসার পদে যোগদান করে। চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে নিয়োগ পাওয়া। অভিযোগ করেন বায়তুল মালের টাকা দিতে অসম্মতি জানানোর কারণে চাকরি হারায়, যদিও এই অভিযোগ সত্য নয় ।
রাকিব নামে এক কর্মকর্তা বলেন, "২০২৩ সালে নিয়োগ পাই। কোন লিখিত পরিক্ষা হয়নি, শুধুমাত্র মৌখিক একটা পরিক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ হয়। তার দাবি সম্পূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মে তার নিয়োগ হয়েছে।"
আলমাস নামে একজন বলেন, বিভিন্ন পরিক্ষায় উত্তীর্ন হয়েছে জানালেও তিনি নিয়োগ পরিক্ষার বিষয়ে কিছুই স্পষ্ট করে বলতে পারেননি। প্রশ্নের মুখে তিনি ডিপ্লোমা পরীক্ষা, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন এসেসমেন্টসহ নানা বিষয়ের এলোমেলো উত্তর দেন।

চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে ২০১৯ সালে নিয়োগ পাওয়া একজন অন্তবর্তীকালীন সরকারের শাসনামলের গভর্নর আহসান এস মনসুরকে দোষারোপ করে বলেন, মূলত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে তাদের চাকরি থেকে প্রত্যাহার করা হয়। কিন্তু তিনি তার নিয়োগের কোন ধরণের প্রামান্য তথ্য দিতে পারেন নি। পটিয়ার অবৈধ নিয়োগের বিষয় জানতে চাইলে তিনি তা অস্বীকার করে বলেন এটি রাজাকার আলবদরদের ছড়ানো প্রপাগান্ডা।
সব মিলিয়ে ব্যাংক খাতে অনিয়ম, প্রভাব বিস্তার এবং অবৈধ নিয়োগের বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটিই এখন সবার নজরের কেন্দ্রবিন্দু।