
ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন মিরপুর ১ নম্বরের বাসিন্দা রিনা আক্তার। সকালবেলা অফিস, সন্ধ্যায় বাসায় ফেরা- এই চেনা রুটিনের মাঝেই তার প্রতিদিনের সবচেয়ে বড় হিসাবটা শুরু হয় মাস শেষে। বেতন হাতে এলে মনে হয়, কিছু টাকা তো থাকছেই। কিন্তু সেই টাকাগুলো কোথায় যায়, কীভাবে জমে- এ প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর তিনি নিজেও জানেন না।
রিনার সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা তার মেয়ে। এখনো স্কুলে পড়ে। কিন্তু সময় থেমে থাকে না। সামনে কলেজ, তারপর বিশ্ববিদ্যালয়। খাতায়-কলমে হিসাব করলে বোঝা যায়, খরচ বাড়বে কয়েক গুণ। আজ যেটা সামলানো যাচ্ছে, পাঁচ-ছয় বছর পর সেটাই বড় চাপ হয়ে দাঁড়াতে পারে- এই আশঙ্কা রিনাকে প্রায়ই ভাবায়।
আমাদের সমাজে অসংখ্য রিনা আছেন, যারা আয় করেন কিংবা সংসার চালান, কিন্তু নিয়মিত সঞ্চয় করতে পারেন না। কেউ চাকরিজীবী, কেউ ব্যবসায়ী, কেউ গৃহিণী। সবার চিন্তা ঘুরে ফিরে এক জায়গায় এসে থামে, সন্তানের ভবিষ্যৎ, নিজের আর্থিক নিরাপত্তা আর হঠাৎ বিপদের জন্য প্রস্তুতি।
সমস্যাটা ইচ্ছের অভাব নয়, সমস্যাটা পরিকল্পনার। মাস শেষে হাতে কিছু টাকা থাকলেও সেটাকে সঠিক জায়গায় না রাখলে তা ধীরে ধীরে খরচের ভিড়ে হারিয়ে যায়। অনেকেই বড় অঙ্কের টাকা জমাতে না পারার ভয়ে শুরুটাই করেন না। অথচ বাস্তবতা হলো, বড় সঞ্চয়ের শুরু হয় ছোট কিস্তি থেকেই।
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতেই রিনা জানতে পারেন ‘রূপালী মান্থলি সেভিংস ফর উইমেন (আরএমএসডব্লিউ) “সুকন্যা”’ নামের একটি সঞ্চয় স্কিমের কথা। রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংক পিএলসি নারীদের জন্য এই স্কিমটি চালু করেছে মূলত মাসিক কিস্তিভিত্তিক সঞ্চয়ের সুবিধা নিয়ে।
এই স্কিমের মূল ধারণা খুবই সহজ, প্রতি মাসে নির্দিষ্ট অঙ্ক জমা, আর সময় শেষে এককালীন বড় অঙ্কের অর্থ। মেয়াদ অনুযায়ী এখানে রয়েছে ৪, ৬ ও ৮ বছরের বিকল্প। সুদের হারও সময়ের সঙ্গে বাড়ে। বার্ষিক চক্রবৃদ্ধি হারে যথাক্রমে ৯ শতাংশ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৯.৫০ শতাংশ পর্যন্ত।
রিনার কাছে সবচেয়ে স্বস্তির বিষয় ছিল কিস্তির নমনীয়তা। মাসে মাত্র ৫০০ টাকা থেকেও সঞ্চয় শুরু করা যায়, আবার সামর্থ্য অনুযায়ী ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। মাসের যেকোনো দিনে কিস্তি দেওয়া যায়, সঞ্চয়ী হিসাব থেকে অটোডেবিট সুবিধা আছে, এমনকি সর্বোচ্চ ছয় মাসের কিস্তি আগাম জমা দেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে।
সংখ্যাগুলো কাগজে-কলমে দেখলে বিষয়টা আরও পরিষ্কার হয়। ধরুন, রিনা প্রতি মাসে মাত্র ১,০০০ টাকা জমালেন। চার বছর শেষে তার সঞ্চয় দাঁড়াবে প্রায় ৫৭ হাজার টাকার বেশি। ছয় বছরে সেটা বেড়ে প্রায় ৯০ হাজার, আর আট বছর শেষে প্রায় দেড় লাখ টাকার কাছাকাছি।
এই সঞ্চয় শুধু ভবিষ্যতের জন্য নয়, বর্তমানের দুশ্চিন্তাও কমায়। কারণ ছয়টি কিস্তি জমা হলে মূল স্থিতির বিপরীতে সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। জরুরি সময়ে সঞ্চয় ভেঙে ফেলতে হয় না, এই মানসিক নিশ্চয়তাটাই অনেকের জন্য বড় ভরসা।
এই ধরনের সঞ্চয় পরিকল্পনা সবচেয়ে বেশি উপযোগী চাকরিজীবী নারী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, গৃহিণী কিংবা সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবছেন- এমন অভিভাবকদের জন্য। নিয়মিত আয় হোক বা অনিয়মিত, সঞ্চয়ের অভ্যাসটাই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
রিনা এখন আগের মতো দুশ্চিন্তায় ভোগেন না। তিনি জানেন, প্রতি মাসের ছোট একটি সিদ্ধান্ত তার মেয়ের ভবিষ্যতের জন্য বড় নিরাপত্তা তৈরি করছে। আর্থিক পরিকল্পনা যে শুধু বড় আয়ের মানুষের জন্য নয়, সেটা তিনি নিজের জীবনেই বুঝেছেন।
আপনিও যদি সন্তানের ভবিষ্যৎ, নিজের নিরাপত্তা কিংবা পরিবারের আর্থিক স্থিতি নিয়ে ভাবেন, তাহলে হয়তো সময় এসেছে একটি সঞ্চয় পরিকল্পনা নিয়ে ভাবার। ব্যাংকে গিয়ে এ ধরনের সেবার খোঁজ নেওয়াই হতে পারে আপনার আগামী দিনের সবচেয়ে সচেতন সিদ্ধান্ত।