
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ঝলমলিয়া এলাকায় বালুবাহী ট্রাক উল্টে চারজন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় মৃতদের মধ্যে একজন নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার সালাইনগর গ্রামের সেন্টু (৪৫)। কিন্তু সেন্টুর মরদেহ বাড়িতে আনার পর গোসল করানোর সময়ে পরিবারের সদস্যরা দেখেন, মরদেহের সঙ্গে অন্য কারো বিচ্ছিন্ন পা এসেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) পরিবারের সদস্যরা জানান, সকালে দুর্ঘটনার পর পুঠিয়া হাইওয়ে থানা পুলিশ নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন। কিন্তু বাড়িতে আনা হলে গোসলের সময় অতিরিক্ত পা দেখা যায়।
স্থানীয় মসজিদের মুয়াজ্জিন ঝন্তু আলী জানান, মরদেহের প্যাকেট খোলার সময় তিনি অতিরিক্ত একটি পা দেখতে পান এবং বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়। পরে পুলিশকে অবহিত করা হয়।
নিহতের চাচাতো ভাই কামরুল ইসলাম বলেন, “মুয়াজ্জিনের মাধ্যমে আমরা অতিরিক্ত পা থাকার বিষয়টি জানতে পারি। কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ আমাদের জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় আহত অপর এক ব্যক্তির দুই পা বিচ্ছিন্ন হয়েছে। পরে পুলিশ জানান, সেই পায়ের একটি অংশ সেন্টুর মরদেহের সঙ্গে চলে এসেছে।”
দুর্ঘটনায় আহত ওই ব্যক্তি হলেন রায়হান হোসেন। তার ভাতিজা অনিক জানান, রায়হানের এক হাতের কব্জি এবং দুই পা বিচ্ছিন্ন হয়েছে। তিনি বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে ভর্তি আছেন। হাসপাতালে মুখপাত্র শংকর কুমার বিশ্বাস বলেন, “রায়হানের দুই পা কাটা গেছে এবং ডান হাতের অবস্থা গুরুতর। তাঁর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক।”
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঝলমলিয়া বাজারে দুর্ঘটনাটি ঘটে, যেখানে একটি বালুবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। ঘটনায় নিহতদের মধ্যে বাকি তিনজন হলেন- কাফুরিয়া গ্রামের শাহীন আলীর ছেলে সিয়াম (২৬), পাইকপাড়া গ্রামের আক্কেল প্রামাণিকের ছেলে মুনকের প্রামাণিক এবং চারঘাট উপজেলার আস্করপুর গ্রামের মাহাতাব আলীর ছেলে ইসলাম আলী (৬২)।
এছাড়া, পুঠিয়ার বানেশ্বরের খুঁটিপাড়া গ্রামের ব্যবসায়ী রায়হান আহত হয়েছেন। তিনি ঝলমলিয়া বাজারে কলা কিনতে গেলে দুর্ঘটনার শিকার হন।
পবা হাইওয়ে থানার ওসি মোজাম্মেল হক জানান, দুর্ঘটনার সময় ট্রাকটি কলা বেচাকেনার স্থানে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলেই তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়, তবে মুনকের প্রামাণিকের লাশ পরিবারের সদস্যরা নিয়ে যান।