
অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় সাংবাদিক আনিস আলমগীরের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছে আদালত।
রবিবার ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেয়।
আসামিপক্ষের আইনজীবী তাসলিমা জাহান পপি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “গত ২৫ ফেব্রুয়ারি আনিস আলমগীর জামিন আবেদন করেন। পরে আদালত আজ (রবিবার) শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।”
এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, আনিস আলমগীরের নামে ২৫ লাখ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ এবং ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদসহ মোট ৪ কোটি ৯ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া পারিবারিক ও অন্যান্য হিসাবে তার ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে তার মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ কোটি ২৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭৮৯ টাকা।
অন্যদিকে, তার বৈধ উৎস থেকে মোট আয় পাওয়া গেছে ৯৯ লাখ ৯ হাজার ৮৫১ টাকা। এর মধ্যে অতীত সঞ্চয় ৫৪ লাখ ৪৫ হাজার ৮২১ টাকা, টকশো ও কনসালটেন্সি থেকে আয় ১৯ লাখ ৩৯ হাজার ৯৭৭ টাকা, প্লট বিক্রি থেকে ২২ লাখ টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক সুদ বাবদ ৩ লাখ ২৪ হাজার ৫৩ টাকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ঘোষিত ও গ্রহণযোগ্য আয়ের তুলনায় তার ৩ কোটি ২৬ লাখ ৪৮ হাজার ৯৩৮ টাকার সম্পদ বেশি পাওয়া যায়, যা মোট অর্জিত সম্পদের প্রায় ৭৭ শতাংশ। দুদকের মতে, এ অংশটিই জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ।
গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর রাজধানীর ধানমন্ডি ২ নম্বর এলাকায় একটি ব্যায়ামাগার থেকে বের হওয়ার সময় তাকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) হেফাজতে নেয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। পরদিন ১৫ ডিসেম্বর আদালত তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আছেন।
গত ৫ মার্চ সন্ত্রাসবিরোধী আইনের এক মামলায় সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে জামিন মঞ্জুর করে হাইকোর্ট বিভাগ।