
সেনাপ্রধান থাকাকালীন কেনাকাটায় দুর্নীতি হয়েছিল বলে জানিয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া। তবে বিষয়টি তার এখতিয়ারের বাইরে থাকায় তিনি এ বিষয়ে কোনো তদন্ত করেননি বলে ট্রাইব্যুনালে দাবি করেন তিনি।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার-এর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে সাক্ষ্য ও জেরাকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সাবেক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান-এর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্যপ্রদান শেষে তাকে জেরা করা হয়। গুম ও খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত জিয়াউল আহসানের মামলায় এটি ছিল ইকবাল করিম ভূঁইয়ার চতুর্থ ও শেষ দিনের জেরা।
জেরার একপর্যায়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী আবুল হাসান দাবি করেন, সেনাপ্রধান থাকাকালে কেনাকাটা চক্রের দুর্নীতির সঙ্গে ইকবাল করিম নিজেও জড়িত ছিলেন।
জবাবে সাবেক সেনাপ্রধান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি সেনাপ্রধান থাকতে কেনাকাটায় দুর্নীতি হয়েছিল। তবে দুর্নীতির সঙ্গে আমি জড়িত ছিলাম—এ কথা সত্য নয়।”
দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিয়েছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি ‘না’ সূচক উত্তর দেন। তার ভাষ্য, বিষয়টি তার এখতিয়ারভুক্ত না হওয়ায় তিনি কোনো পদক্ষেপ নেননি।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেনাপ্রধানের আদেশ অমান্য করলে সেনা আইন অনুযায়ী শাস্তির বিধান রয়েছে। তবে জিয়াউল আহসান র্যাবে কর্মরত থাকায় তার বিরুদ্ধে কোনো ‘ওয়ার্নিং’ বা ব্যাখ্যা চাওয়া হয়নি।
আসামিপক্ষ দাবি করে, সেনাপ্রধানের সব বৈধ আদেশই জিয়াউল আহসান মেনে চলেছেন। এ দাবির জবাবে ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেন, “জিয়াউল আহসান আমার কোনো বৈধ আদেশ অমান্য করেননি—এ তথ্যটি সত্য নয়।”
টানা চার দিনের জেরা শেষে ট্রাইব্যুনাল আগামী ৯ মার্চ মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন।
এর আগে গত ১৪ জানুয়ারি জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। একইসঙ্গে সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনসহ সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ৩ মার্চ দিন নির্ধারণ করা হয়। প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন ইকবাল করিম ভূঁইয়া।
