
কাজের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে অধস্তন আদালতের বিচারকদের জন্য কঠোর বার্তা দিলেন নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, আদালতের কর্মঘণ্টায় ফেসবুকসহ কোনো সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের সুযোগ নেই।
বিচারকদের উদ্দেশে দেওয়া সতর্কবার্তায় প্রধান বিচারপতি বলেন, আদালতের কর্মঘণ্টার মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করার কোনো সুযোগ নেই। যদি কোনো বিচারক কর্মঘণ্টার মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেন এবং তার প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে সেদিনই হবে তার বিচারিক জীবনের শেষ দিন।
সম্প্রতি দেশের সব জেলার জেলা ও দায়রা জজ, মহানগর দায়রা জজ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের উদ্দেশে দেওয়া এক অভিভাষণে তিনি এই কড়া হুঁশিয়ারি দেন।
উল্লেখ্য, গত ২৩ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীকে বাংলাদেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেন। পরে ২৮ ডিসেম্বর বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি তাকে শপথবাক্য পাঠ করান। শপথ গ্রহণের পরপরই অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ে এই অভিভাষণের আয়োজন করা হয়।
সেদিন সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে দেওয়া বক্তব্যে প্রধান বিচারপতি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখা হবে। বিচার আসনে বসে কোনো ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতিকে আশ্রয়-প্রশয় দেওয়ার সুযোগ নেই। বিচারক হিসেবে আপনাদের সৎ ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সততার ব্যাপারে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। যদি কোনো বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে তাকে চড়া মূল্য দিতে হবে।
বিচারিক কার্যক্রমে গতি আনার ওপর জোর দিয়ে প্রধান বিচারপতি রায় ঘোষণার সময়সীমা নিয়েও নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, আপনারা মামলার শুনানি ও নিষ্পত্তির তিন-সাত দিনের মধ্যে রায় প্রকাশ করবেন। যদি রায় প্রদানে বিলম্ব করেন তাহলে পুনরায় মামলার নথি পর্যালোচনা করতে হয়। এতে সময়ের অপচয় হবে। ভোগান্তি হবে বিচারপ্রার্থী জনগণের। সেজন্য রায় বা আদেশ প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বিলম্ব কাম্য নয়। আদালতের কর্মঘণ্টার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করতে হবে।
এছাড়া অধস্তন আদালত ও কোর্ট প্রাঙ্গণের শৃঙ্খলা ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, আইনজীবী ও মামলার পক্ষগণ ছাড়া কেউ যেন এজলাস কক্ষে প্রবেশ না করে সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। কোর্টকে বহিরাগতমুক্ত রাখতে হবে। আদালত প্রাঙ্গণে বাদাম, চা ও ডাব বিক্রেতাদের ছাড়াও হকারদের দেখা যায়। এদের কোর্ট প্রাঙ্গণে প্রবেশে কোনো ধরনের অনুমতি প্রদান করা যাবে না। একই সঙ্গে আইনজীবীদের ড্রেসকোড মানা হচ্ছে কি না, সে বিষয়েও নজর রাখার আহ্বান জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, অধস্তন আদালতের অফিস সময় সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। এর মধ্যে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত আদালতের কার্যক্রম চলে। দুপুরে খাবার ও নামাজের জন্য নির্ধারিত বিরতি থাকে বলে নিম্ন আদালতের একাধিক বিচারক জানিয়েছেন।