
কলকাতার একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সাতক্ষীরার দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। স্বজনরা জানিয়েছেন, নিহতরা হলেন সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার আলিমুজ্জামান সাজু (৪৫) ও রেবতী সরকার (৩৫)। চিকিৎসার জন্য তারা ভারতে গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে এলাকায় খবর পৌঁছালে নিহতদের পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত আলিমুজ্জামান সাজু কালিগঞ্জ উপজেলার তারালী ইউনিয়নের বরেয়া গ্রামের মৃত ইউনুস সরদারের ছেলে। পেশায় তিনি ঘের ব্যবসায়ী ছিলেন। তার নিকটাত্মীয় মোখলেছুর রহমান পল্টু জানান, কোমরের ব্যথার চিকিৎসা নিতে পাঁচ-ছয় দিন আগে ভারতে গিয়েছিলেন সাজু। বুধবার তার দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু এর আগেই রাতে কলকাতার একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে তার মৃত্যুর খবর পান স্বজনরা।
সাজুর বড় ভাই সাহেব আলী সরদার জানান, বুধবার সন্ধ্যায় ভাইয়ের খোঁজ নিতে তার মোবাইলে কল করা হলে কলকাতার একটি থানার এক পুলিশ সদস্য ফোনটি ধরেন। তিনি জানান, অগ্নিকাণ্ডে সাজু মারা গেছেন। পরে ছবি দেখে তারা সাজুর পরিচয় নিশ্চিত করেন।
সাজুর বড় ভাবি তানিজা আক্তার জানান, সাজু অবিবাহিত ছিলেন এবং হজ পালনের পর থেকেই অনেকটা নিভৃত জীবনযাপন করতেন। সাজুর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।
অন্যদিকে, একই ঘটনায় নিহত রেবতী সরকার কালিগঞ্জের তেঁতুলিয়া গ্রামের ভবেশ সরকারের স্ত্রী। প্রতিবেশীরা জানান, চিকিৎসার জন্য ১১ দিন আগে ভারতে গিয়েছিলেন রেবতী। তার স্বামী ভবেশ সরকার ইটভাটার শ্রমিক। রেবতীর ছোট ভাই তপন সরকার জানান, ফোনকলের মাধ্যমে তারা তার মৃত্যুর খবর জানতে পারেন।
কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার একটি হোটেলে বুধবার ভোরে অগ্নিকাণ্ডে কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিকের প্রাণহানি ঘটেছে বলে সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের সূত্রে জানা গেছে। খবর পাওয়ার পরপরই কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃত ও আহতদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেন।
সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডে সাতক্ষীরার দুইজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়ার পর তারা বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নিচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে কলকাতার ওই হোটেলে আগুন লাগে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি এবং দুজন ভারতীয় নাগরিক।
নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে কুষ্টিয়ার একই পরিবারের চারজন রয়েছেন। তারা হলেন দৈনিক আজকের পত্রিকার কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি দেবাশীষ দত্ত (৩৯), তার স্ত্রী আফসানা শারমীন (২৭), তাদের তিন বছরের ছেলে স্বর্ণশীষ দত্ত এবং দেবাশীষের শ্বশুর আকরাম আলী (৬৪)। এ ছাড়া ঢাকার সাভারের আমিনবাজার এলাকার আহমেদ বাবু (৪০) অগ্নিকাণ্ডে মারা গেছেন।