
শেরপুরের নকলায় মুক্তিযুদ্ধের সময়কার রাজাকার ও আলবদরদের তালিকা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নকলা উপজেলা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার মো. মনসুর আলী। তার দাবি, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপের মধ্যে ২০১৭ সালে একটি তালিকায় তাদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে ওই তালিকায় থাকা কয়েকজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা করা হয়।
সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে নকলা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন সাবেক কমান্ডার মো. মনসুর আলী।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের দায়িত্বে থাকার সময় ২০১৭ সালের ২৮ মার্চ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নকলা উপজেলায় মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের বিষয়ে তথ্য চায়। তখন নকলা উপজেলায় জীবিত কোনো আলবদর বা রাজাকার সম্পর্কে তাদের কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই বলে বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়। তবে, একই বছরের মে মাসে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তা মনোয়ারা বেগম একটি তালিকা নিয়ে তাদের কাছে আসেন। তৎকালীন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপের পরিস্থিতিতে ওই তালিকায় তাদের স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলে দাবি করেন মনসুর আলী।
তিনি বলেন, ওই তালিকায় বিএনপি নেতা ও সাবেক নকলা পৌরসভার মেয়র মোখলেছুর রহমান তারা, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট এ কে এম আকরাম হোসেন এবং নকলা হাজী জাল মাহমুদ কলেজের সাবেক প্রভাষক এস এম আনিসুজ্জামান ফারুকসহ ৬০ জনের নাম ছিল। তার দাবি, মুক্তিযুদ্ধের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বয়স ও অবস্থান বিবেচনায় তাদের রাজাকার বা আলবদরের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ সত্য নয়। ৬০ জনের ওই তালিকার সত্যতা নিয়েও গুরুতর আপত্তি রয়েছে বলে জানান সাবেক এই মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার।
তিনি দাবি করে বলেন, পরবর্তীতে তালিকায় থাকা কয়েকজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা হওয়ায় তারা যাবজ্জীবন দন্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে বন্দি আছেন। ফলে তাদের সামাজিক ও পারিবারিক জীবনে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে মোখলেছুর রহমান তারা’র আপন জেঠাতো ভাই ও নকলা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জায়েদ হোসেন বাদশা বলেন, বিশেষ ট্রাইব্যুনাল কয়েকবার নকলায় এসেছে। বিভিন্নভাবে মামলাটি প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। মামলাটি কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়েও বিভিন্ন জায়গায় চেষ্টা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে মোখলেছুর রহমান তারা’র ভাতিজাসহ বিএনপি নেতাকর্মী, মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।