
চট্টগ্রামে অগ্রণী ব্যাংকের একটি শাখার ভল্ট থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা সরিয়ে একটি অ্যাগ্রোফার্মে বিনিয়োগের অভিযোগে ব্যাংকের ক্যাশ ইনচার্জসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন অগ্রণী ব্যাংকের চট্টগ্রামের লালদীঘিপাড় জেলা পরিষদ ভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত করপোরেট শাখার ক্যাশ ইনচার্জ কামরুল হোসেন (৪১) এবং তাঁর সহযোগী জাফরুল্লাহ তানভীর (২৫)।
বুধবার রাতে ব্যাংকের ম্যানেজার মোস্তাক আহমেদ বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করার পর তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলায় আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জায়েদ মো. নাজমুন নুর বলেন, অগ্রণী ব্যাংকের ভল্ট থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা গায়েবের ঘটনায় ব্যাংক ম্যানেজার মামলা করেছেন। ইতোমধ্যে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
যেভাবে ধরা পড়ে টাকা সরানোর ঘটনা
মামলার এজাহার ও ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, কামরুল হোসেন ওই শাখার ক্যাশ ও ভল্টের দায়িত্বে ছিলেন। গত ৯ আগস্ট নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রম শেষে নগদ অর্থের হিসাব এবং ভল্টে সংরক্ষিত অর্থের হিসাব মেলানোর সময় বিপুল ঘাটতি ধরা পড়ে।
কাগজপত্র অনুযায়ী ভল্টে যে পরিমাণ টাকা থাকার কথা, তা গণনা করে দেখা যায় ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা কম রয়েছে। এ বিষয়ে কামরুল হোসেনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
ব্যাংক সূত্র জানায়, ভল্টে রাখা এক হাজার টাকার নোটের বান্ডিলের মধ্যে বেশির ভাগই ছিল ১০০ টাকার নোট। ফলে বাইরে থেকে বান্ডিল দেখে এক হাজার টাকার নোট হিসেবে হিসাব মেলানো হলেও প্রকৃত অর্থের পরিমাণ ছিল অনেক কম।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ক্যাশ ইনচার্জের কাছ থেকে টাকা সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গরুর খামারে বিনিয়োগের অভিযোগ
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংক থেকে সরানো টাকা জাফরুল্লাহ তানভীরের মাধ্যমে একটি অ্যাগ্রোফার্মে বিনিয়োগ করা হয়েছে বলে কামরুল হোসেন জানিয়েছেন।
হাটহাজারীর উত্তর বুড়িশ্চর এলাকায় ‘ইশরাত অ্যাগ্রো’ নামে ওই গরুর খামারে বর্তমানে বিভিন্ন উন্নত জাতের প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি গরু রয়েছে বলে জানা গেছে।
ব্যাংক সূত্রের দাবি, ২০২৫ সালের ১ জুন থেকে চলতি বছরের ৯ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে ভল্টে এই ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
এক বছরের বেশি সময়েও ঘাটতি ধরা পড়েনি কেন
ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিদিনের লেনদেন শেষে শাখার ক্যাশ ও ভল্টের হিসাব মেলানোর কথা। কিন্তু এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ঘাটতি তৈরি হলেও তা আগে কেন ধরা পড়েনি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ ঘটনায় শাখা ব্যবস্থাপকসহ সংশ্লিষ্ট অন্য কর্মকর্তাদের কোনো দায় রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকলে তদন্তে তা বেরিয়ে আসবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
তবে গ্রেপ্তার জাফরুল্লাহ তানভীরের বাবা আজিম উল্লাহ দাবি করেছেন, তাঁর ছেলে এ ঘটনায় জড়িত নন এবং তাঁকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে।
তদন্তে আরও তথ্য বেরিয়ে আসবে
মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইকবাল হোসেন। তিনি জানান, মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে একটি আইফোনসহ দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
টাকা কীভাবে সরানো হয়েছে, এ ঘটনায় তাঁদের সঙ্গে কারা যোগাযোগ করেছে এবং আরও কারও সংশ্লিষ্টতা বা দায় রয়েছে কি না—এসব বিষয় তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তা।