
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে পরিবহন থামিয়ে চালক ও হেলপারকে মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নগদ টাকা ও মালামাল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে সংঘবদ্ধ পরিবহন চাঁদাবাজ চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ।
বুধবার (২২ জুলাই) ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন চিটাগাং রোড ও মিজমিজি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মো. সাখাওয়াত হোসেন সৈকত (৪০), মো. সেন্টু (৪০), মো. রবিন (৩৫) ও মো. ইউসুফ (২৬)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ মে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ‘মালঞ্চ পরিবহন’-এর একটি বাস (রেজিস্ট্রেশন নম্বর: ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৩৫৮১) জামালপুর থেকে নারায়ণগঞ্জে আসার পথে সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সানারপাড় ইউটার্ন এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পৌঁছালে ৭-৮ জনের একটি দল মোটরসাইকেল দিয়ে বাসটির গতিরোধ করে। এ সময় তারা বাসের চালক আমিনুল ইসলাম ও হেলপার নজরুল ইসলামকে এলোপাতাড়ি চড়-থাপ্পড়, কিল-ঘুষি মেরে আহত করে এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা দাবি করে।
চালক ও হেলপার চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা জোরপূর্বক তাদের কাছ থেকে বাসের নগদ ৯ হাজার ৫০০ টাকা, আনুমানিক ২৮ হাজার টাকা মূল্যের রিংসহ একটি স্পেয়ার চাকা, গাড়ির কাগজপত্র এবং একটি টেকনো কোম্পানির স্মার্টফোন নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়।
পরবর্তীতে বিষয়টি মালঞ্চ পরিবহনের পরিচালক গোলাম মোস্তফা রানাকে জানানো হলে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে চালক ও হেলপারের কাছ থেকে বিস্তারিত ঘটনা শোনেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৯ মে চাঁদাবাজরা কাগজপত্র ফেরত দেওয়ার কথা বলে বিকাশের মাধ্যমে আরও ৬ হাজার টাকা নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় মালঞ্চ পরিবহনের পরিচালক গোলাম মোস্তফা রানা বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সুযোগ্য পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সীর নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, জেলা গোয়েন্দা শাখা, নারায়ণগঞ্জ মো. হাসিনুজ্জামানের তত্ত্বাবধানে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
জেলা গোয়েন্দা শাখার ‘ক’ জোন ইনচার্জ নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে এসআই (নিঃ) মিজানুর রহমান, পিপিএমসহ সঙ্গীয় ফোর্স অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেফতার করে।
পুলিশের তথ্যমতে, গ্রেফতারকৃত মো. সাখাওয়াত হোসেন সৈকতের বিরুদ্ধে জিএমপি, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদী জেলার বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও দস্যুতার অভিযোগে ৬টি মামলা রয়েছে। মো. সেন্টুর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা রয়েছে। মো. রবিনের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন থানায় হত্যা, চাঁদাবাজি ও ডাকাতির অভিযোগে ৬টি মামলা রয়েছে। অপর আসামি মো. ইউসুফের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও দ্রুত বিচার আইনে দুটি মামলা বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
জেলা গোয়েন্দা শাখার ‘ক’ জোন ইনচার্জ নজরুল ইসলাম জানায়, গ্রেফতারকৃতরা তাদের অজ্ঞাতনামা সহযোগীদের নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে সিদ্ধিরগঞ্জসহ আশপাশের এলাকায় সড়ক ও মহাসড়কে বিভিন্ন পরিবহন থামিয়ে চালক ও হেলপারদের মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করে আসছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তাদের পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদনসহ বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।