
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, দেশের ৭০ শতাংশ মানুষের গণভোটের দাবির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিএনপি শেখ হাসিনার সংবিধান বাস্তবায়নে কাজ করছে।
বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে কুড়িগ্রাম শহরে ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণের পদযাত্রা’ শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জেলা এনসিপি আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনে জীবন দেওয়া মানুষগুলোর খুনিদের টাকার বিনিময়ে ছাড়িয়ে নিচ্ছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। খুনিদের রক্ষার জন্য তারা ট্রাইব্যুনালে নিজেদের পছন্দের লোক বসিয়েছে। ব্যাংক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমনকি মসজিদ কমিটিও তারা দখলে নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা বলেছিলাম, আবু সাইদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে বাংলাদেশে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চলতে দেওয়া হবে না। কিন্তু তারা আবু সাইদের স্বপ্নকে ভঙ্গ করেছে।
বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশের ৭০ ভাগ মানুষের গণভোটের দাবির বিরুদ্ধে গিয়ে তারা শেখ হাসিনার সংবিধান, মুজিববাদী সংবিধান ও ভারতীয় স্বার্থ বাস্তবায়নে কাজ করছে। ২০০ আসন পেয়ে বিএনপির পাখনা গজিয়েছে। আমরা বলতে চাই, বাংলাদেশে প্রয়োজনীয় সংস্কার না হলে সেই পাখনা ভেঙে মাটিতে পড়বে।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, এই সরকারের আমলে বাজেট ঢাকা থেকে বগুড়া পর্যন্ত আসে। রংপুরে আসে না।
সমাবেশে উত্তরাঞ্চলের মূখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, এই দূর্দশাগ্রস্ত জেলাটাকে গড়তে চাই। আওয়ামীলীগের আমলে বাজেট বগুড়া পার হতো না। বিএনপির আমলে বাজেট ঢাকা থেকে বগুড়া আসে, রংপুরে আসে না। কুড়িগ্রাম তো দূরের কথা।
ক্ষমতাসীন দলের তীব্র সমালোচনা করে দলটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, 'সীমান্তবর্তী প্রত্যেকটি জেলায় মাদকের ছড়াছড়ি করা হয়। এই প্রকল্পের মাধ্যমে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের চেষ্টা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দলের লোকজন দিনের বেলা মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলে। রাতের বেলা তাদের ৫-১০টা নেতা মাদকের লাভের ভাগের টাকা নেয়।
সমাবেশে এনসিপির সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আকতার হোসেন বলেন, বিএনপিও কিন্তু ২৪ এর আগে রাস্ট্র সংস্কারের কথা বলেছিল। কিন্তু দূর্ভাগ্যের বিষয় ক্ষমতায় আসার পরে তারা আর সংস্কার চায় না। আগে যেভাবে হাসিনা দেশ চালিয়েছিল, তারাও সেই ফায়দাটাই নিতে চায়।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ।
জেলা এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও মিডিয়া সেল প্রধান রাশেদুজ্জামান তাওহীদ এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে
অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেলা এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মুকুল মিয়া, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান জুয়েল, সদস্য সচিব মাসুম মিয়া সহ জেলা, উপজেলা পর্যায়ের অনান্য নেতৃবৃন্দ।
এর আগে শহরের কলেজ মোড়স্থ স্বাধীনতার বিজয়স্তম্ভ চত্বর থেকে ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণের পদযাত্রা’ শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।