
শিক্ষাভবন থেকে পুলিশের বাধার মুখে ফিরে এসে এবার তিন দফা দাবিতে রাজধানীর ব্যস্ততম শাহবাগ মোড় পুরোপুরি অবরুদ্ধ করে ফেলেছে আন্দোলনরত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীরা।
বুধবার (১৫ ১৫ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে কয়েকশ শিক্ষার্থী শাহবাগ মোড়ের মূল সড়কে অবস্থান নিলে চারদিকের যান চলাচল সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে যায়। এর ফলে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট, যার করাল গ্রাসে পড়েন অফিসফেরত সাধারণ মানুষ এবং জরুরি সেবার রোগীবাহী যানবাহন।
সায়েন্স ল্যাব থেকে শিক্ষা ভবন হয়ে শাহবাগ: শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ যাত্রা
আজ দুপুর থেকেই পরীক্ষার্থীদের আন্দোলনের তীব্রতা বাড়তে থাকে। প্রথমে তারা দুপুরের দিকে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে এসে জড়ো হন এবং প্রায় আধঘণ্টা রাস্তা আটকে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এরপর সেখান থেকে তারা পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সচিবালয়ের অভিমুখে 'লংমার্চ' বা পদযাত্রা শুরু করেন। মিছিলটি প্রেস ক্লাব পেরিয়ে শিক্ষা ভবনের সামনে পৌঁছালে শিক্ষার্থীরা সেখানে রাস্তা আটকে বিকেল থেকে সন্ধ্যা প্রায় ৬টা পর্যন্ত টানা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
তবে আন্দোলনকারীরা সচিবালয়ের ভেতরে প্রবেশ করতে চাইলে প্রবেশমুখে পুলিশের তৈরি করা শক্ত ব্যারিকেডের মুখে পড়েন। সেখানে বাধা পেয়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তাদের আন্দোলনের দিক পরিবর্তন করে সরাসরি শাহবাগ মোড়ে গিয়ে নতুন করে অবস্থান নেন এবং চতুর্দিক থেকে সড়ক অবরোধ করেন।
অবশ্য সন্ধ্যার পর পরীক্ষা থাকার বিষয়টি বিবেচনা করে এক শিক্ষার্থী আন্দোলনের পরবর্তী রূপরেখা জানিয়ে বলেন:
“আমাদের অনেকের আগামীকাল যেহেতু পরীক্ষা আছে, তাই এখানের কর্মসূচি আমরা আজ শেষ করেছি। তবে আমাদের দাবি-দাওয়া বহাল থাকবে। আমাদের আন্দোলন চলমান থাকবে।”
অবরুদ্ধ শাহবাগে দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ
শিক্ষার্থীদের এই আকস্মিক অবরোধের কারণে শাহবাগ মোড় দিয়ে সব ধরনের পরিবহনের চাকা বন্ধ হয়ে যায়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে মৎস্য ভবন, বাংলামোটর, কাকরাইল, টিএসসি, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকাসহ চারপাশের সব সংযোগ সড়কে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসে আটকে থেকে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন সাধারণ মানুষ। অনেকে নিরুপায় হয়ে হেঁটেই গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
যানজটের কবলে পড়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে শাহীন নামের এক ভুক্তভোগী গণমাধ্যমকে বলেন:
“সকাল থেকে এখন পর্যন্ত পুরো ঢাকায় যানজট। একবার একেক জায়গায় অবরোধ করা হচ্ছে। এটা কোন দেশ? এভাবে দেশ চলতে পারে? সাধারণ মানুষের কষ্ট ছাড়া আর কিছুই না।”
একই রকম দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে উর্মিলা নামের আরেক যাত্রী আক্ষেপ করে বলেন:
“এই গরমে বাচ্চা নিয়ে বাসের মধ্যে বসে আছি। কষ্ট কাকে বুঝাব। এভাবে অবরোধ করতে থাকলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ছাড়া আর কিছুই হবে না।”
এদিকে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে শাহবাগ ও তার আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।