
কুমিল্লার সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী অর্পিতা নওশিনের মৃত্যুকে ঘিরে নানা জটিলতা ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে কলেজ সংলগ্ন হাসপাতাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খুলনার বাসিন্দা অর্পিতা নওশিন খুলনার সরকারি গার্লস হাইস্কুল ও খুলনা কলেজিয়েট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কেসিসি উইমেন কলেজ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাশ করে কলেজের ১৮তম ব্যাচে ভর্তি হন।
পরিবার ও সহপাঠীদের দাবির বরাতে জানা গেছে, অর্পিতা মানসিক চাপে অতিরিক্ত ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্ত এবং তদন্তের প্রয়োজন। এই ঘটনার পর কলেজ কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সহকারী অধ্যাপক সহিদ উল্লাহ।
সহপাঠীরা জানান, প্রথম বর্ষে অধ্যয়নকালে অর্পিতার এনাটমি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মনিরা জহিরের সঙ্গে ব্যক্তিগত কারণে সম্পর্ক খারাপ হয়। এরপর থেকে তিনি একাডেমিক চাপ, সামাজিক অস্বস্তি ও মানসিক টানাপোড়েনে ছিলেন। একই ব্যাচের অন্যান্য শিক্ষার্থীরা সহজে উত্তীর্ণ হলেও অর্পিতা বারবার পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করতে পারেননি। গত তিন বছরে চারবার পরীক্ষা দেওয়ার পরও তিনি সফল হননি। ফলস্বরূপ, প্রথম বর্ষে আটকে থেকে জুনিয়র শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ক্লাস ও পরীক্ষা দিতে হয়েছে, যা তার মানসিক অবস্থা আরও দুর্বল করে তোলে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে কলেজ সদর দক্ষিণ উপজেলার মোস্তফাপুর ক্যাম্পাস সংলগ্ন মহিলা হোস্টেল থেকে অর্পিতার দেহ উদ্ধার করে কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হাসপাতালে আনার আগে তার মৃত্যু হয়ে গেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
অর্পিতার ভাই শাহরিয়ার আরমান জানিয়েছেন, শিক্ষকের মানসিক চাপ তার মৃত্যুর পেছনে মূল কারণ হতে পারে। তিনি দাবি করেন, প্রথম বর্ষ থেকেই তার বোন মানসিক নিপীড়নের শিকার ছিলেন। কলেজের অধ্যক্ষ ডা. ফজলুল হক লিটন বলেন, এমন ঘটনা আমাদের গভীরভাবে দুঃখিত করেছে। তদন্তে যদি কোনো শিক্ষকের অবহেলার প্রমাণ পাওয়া যায়, ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, কলেজের তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে এবং পুলিশও আলাদাভাবে অনুসন্ধান চালাচ্ছে।