
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব জাহিদুল ইসলাম রাসেলের আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে 'মোরাল পুলিশিং' এর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাইটস ফর কোস্টাল পিপল (আরসিপি)।
এক বিবৃতিতে উপকূলীয় অঞ্চলের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনটির চেয়ারম্যান রেদওয়ানুল হক বলেন, অবিলম্বে এ ধরণের কর্মকান্ড বন্ধ করতে হবে। কোন ব্যক্তি অপরাধী কি-না তার সিদ্ধান্ত কেবল আইনী উপায়ে নিষ্পত্তি হতে পারে বলেও জানান তিনি ।
বিবৃতিতে বলা হয়- সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে উপকূলীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি হচ্ছে। এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই সুযোগে কিছু ব্যক্তি 'মোরাল পুলিশং' করে তা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মানবাধিকার ক্ষুন্ন হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে ''লঘু পাপে গুরু দণ্ড'' দেওয়ার ঘটনা ঘটছে।
অতিসম্প্রতি ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার 'খেজুর গাছিয়া' নামক পর্যটন এলাকায় কিছু পর্যটককে হেনস্তার অভিযোগ ওঠে দুই যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নেয়নি। তবে জাহিদুল ইসলাম রাসেল নামক এক ব্যক্তি পর্যটক হেনস্তায় অভিযুক্ত একজনকে জনসম্মুখে মারধর এবং কান ধরে উঠবস করিয়ে শাস্তি দেন। এর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ি পড়ে। কয়েকটি গণমাধ্যমও এই ভিডিও প্রকাশ করে।
রাইটস ফর কোস্টাল পিপল (আরসিপি) মনেকরে উল্লেখিত ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি অপরাধী কি-না তার সিদ্ধান্ত কেবল আইনী উপায়ে নিষ্পত্তি হতে পারে। প্রকাশ্যে শাস্তি দিয়ে তা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তির মানবাধিকার চরমভাবে খর্ব করা হয়েছে। যা আইনের শাসনের পরিপন্থী।
আরসিপি গভীর উদ্বেগের সঙ্গে জানাচ্ছে যে-
এধরণের ''মোরাল পুলিশিং'' অনতিবিলম্বে বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। একই সাথে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটিয়ে সামাজিক অপরাধ বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।