
চরম অমানবিকতার সাক্ষী হলো নরসিংদীর মাধবদী। গত বুধবার রাতে বাবার সামনে থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর বৃহস্পতিবার সকালে এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর বিচার চাওয়াই যেন কাল হলো ওই কিশোরীর জন্য। এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এখন পর্যন্ত চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত কিশোরীর স্বজনদের দাবি অনুযায়ী, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে বাড়ি ফেরার পথে ওই কিশোরীকে অপহরণ করে ধর্ষণ করা হয়। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিকার চেয়ে তারা স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য আহমদুল্লাহর দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তবে সাহায্যের পরিবর্তে ওই জনপ্রতিনিধি উল্টো তাদের এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন।
গ্রাম্য সালিশে বিচার চাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে অভিযুক্ত পক্ষ। গত বুধবার রাতে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খালার বাড়িতে আশ্রয় নিতে যাচ্ছিল ওই কিশোরী। পথে বিলপাড় এলাকায় পৌঁছালে নূরার নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত বাবার সামনে থেকেই তাকে ছিনিয়ে নেয়। এর পরের দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সকালে মহিষাশুড়া ইউনিয়নের একটি সরিষা খেত থেকে ওই কিশোরীর প্রাণহীন দেহ উদ্ধার করে স্থানীয় জনতা। পরবর্তীতে পুলিশ এসে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাথমিক ধারণা, আগের ধর্ষণের ঘটনার বিচার চাওয়ার কারণেই ক্ষুব্ধ হয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে জোরদার অভিযান চালানো হচ্ছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, ইতিমধ্যে সন্দেহভাজন হিসেবে চারজনকে আটক করা হয়েছে। আর ধর্ষণের বিষয়টি তদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে।