
নড়াইল-১ আসনে নির্বাচনী উত্তাপের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা আব্দুল আজিজের একটি নির্বাচনী কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীদের দাবি, জামায়াতে ইসলামী নেতাকর্মীদের সঙ্গে তর্ক-বিতর্কের পর ওই কার্যালয়ে আগুন ধরানো ও ভাঙচুর করা হয়।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকালে নড়াইল সদর উপজেলার বিছালী তিন দোকান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন।
ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা জানান, রোববার রাতে ভোট চাওয়াকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেও পরে দুই সংগঠনের সিনিয়র নেতাদের হস্তক্ষেপে রাতেই বিষয়টি মীমাংসা হয়। এরপর রাতের কোনো এক সময় অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ইসলামী আন্দোলনের ওই অফিসে অগ্নিসংযোগ করে। এতে কার্যালয়ে থাকা চেয়ার-টেবিল, মাইক এবং হাতপাখা প্রতীকসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম পুড়ে যায়। সকালে এসে ভেতরে আগুনে পোড়া ও ভাঙচুরের চিহ্ন দেখতে পান নেতাকর্মীরা।
ঘটনার খবর পেয়ে সকালে ঘটনাস্থলে যান ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নড়াইল জেলা শাখার সেক্রেটারি এস এম নাসির উদ্দিনসহ সংগঠনটির অন্যান্য নেতাকর্মীরা।
এ সময় এস এম নাসির উদ্দিন বলেন, “নির্বাচনের শুরু থেকেই আমাদের প্রার্থীর এই কার্যালয় ছিল এবং এখান থেকে নির্বাচনী কর্মকাণ্ড চলত। রোববার রাতে জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের সঙ্গে আমাদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। এর মধ্যেই আমাদের অফিসটি আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং সবকিছু পুড়ে গেছে। যাচাই-বাছাই করে, যারা এ ঘটনার সঙ্গে যুক্ত, তাদের আইনের আওতায় এনে দৃশ্যমান বিচারের দাবি করছি।”
অন্যদিকে, বিছালী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর ৭ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি মো. হাসিবুর মোল্যা গণমাধ্যমকে বলেন, “গত রাতে বাগ্বিতণ্ডা হলেও সেটি মীমাংসা হয়ে যায়। সবাই সন্তুষ্ট হয়ে কোলাকুলি করে যার যার মতো চলে যায়। তাদের অফিসে আগুনের ঘটনায় আমাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। আমরাও চাই, আগুনের ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি হোক।”
নড়াইল সদর থানার পরিদর্শক অজয় কুমার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “এই ঘটনায় যারাই জড়িত থাকুক তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”