
সুইজারল্যান্ডের দাভোসে আন্তর্জাতিক উত্তেজনার মাঝেই বিশ্ব নেতাদের সামনে ভাষণ দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গ্রিনল্যান্ড দখল, ভেনেজুয়েলা ও ইউক্রেন যুদ্ধসহ বহু স্পর্শকাতর বিষয় ট্রাম্পের বক্তৃতার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়ার্ল্ড ইকনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) মূল মঞ্চে ভাষণ শুরুতেই ট্রাম্প বলেন, “ইউরোপ সঠিক পথে এগোচ্ছে না। এই ইউরোপ আমার কাছে অচেনা হয়ে গেছে। আমি ইউরোপকে ভালোবাসি। আমি চাই তারা ভালো করুক।”
যুক্তরাষ্ট্রই বিশ্বের অর্থনৈতিক ইঞ্জিন
নিজ দেশের অর্থনৈতিক শক্তি তুলে ধরে ট্রাম্প বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রই বিশ্বের অর্থনৈতিক ইঞ্জিন। আর আমেরিকা যখন সমৃদ্ধ হয়, তখন পুরো বিশ্বই সমৃদ্ধ হয়। আপনারা সবাই আমাদের সঙ্গে নামেন, আবার আমাদের সঙ্গেই ওপরে ওঠেন।” তিনি ইউরোপে গ্রিন এনার্জি ও উচ্চ অভিবাসনের কারণে অর্থনৈতিক ক্ষতির বিষয়ও উল্লেখ করেন।
ভেনেজুয়েলা ও তেলের বাজার
ভেনেজুয়েলা নিয়ে ট্রাম্প বলেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে দেশটি “অসাধারণভাবে ভালো করবে”। তিনি বলেন, “ভেনেজুয়েলা আগামী ছয় মাসে গত ২০ বছরের চেয়ে বেশি টাকা আয় করবে। প্রতিটি বড় তেল কোম্পানিই আমাদের সঙ্গে আসছে।” তিনি অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ প্রশাসনের প্রশংসা করে বলেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভালোভাবে সহযোগিতা করছে।
পারমাণবিক শক্তির প্রতি জোর
জ্বালানি নীতি নিয়ে ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক শক্তির দিকে আরও গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেন, “আগে আমি এর বড় ভক্ত ছিলাম না, ঝুঁকি ও বিপদের বিষয়টি আমার ভালো লাগত না। কিন্তু পারমাণবিক নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিতে যে অগ্রগতি হয়েছে, তা অসাধারণ।” পাশাপাশি ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যের বায়ুশক্তি ব্যবহার না করার বিষয়েও সমালোচনা করেন।
গ্রিনল্যান্ড: যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড দাবি
গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গে ট্রাম্প হালকা রসিকতার সুরে বলেন, “ডেনমার্ক এটি রক্ষা করতে পারে না। কৌশলগত নিরাপত্তার জন্য আমাদের এটা দরকার। এই বিশাল, সুরক্ষাবিহীন দ্বীপ আসলে উত্তর আমেরিকার অংশ। ওটা আমাদের ভূখণ্ড।” তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অধিগ্রহণ নিয়ে আলোচনায় বসার জন্য প্রস্তুতি থাকার কথা জানান। তবে বলপ্রয়োগের প্রতি অনড় অবস্থান নেন, “আমাকে এটা করতে হবে না, আমি করতে চাই না।”
ন্যাটো ও নিরাপত্তা
ন্যাটো সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, “এতে ন্যাটো জোটের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।” তিনি গ্রিনল্যান্ডকে “সমুদ্রের মাঝখানে বিশাল বরফের খণ্ড” উল্লেখ করে বলেন, এটি রক্ষা করতে পূর্ণ মালিকানা প্রয়োজন, লিজ বা লাইসেন্স দিয়ে নয়।
ইউক্রেন যুদ্ধ
ইউক্রেন বিষয়ে ট্রাম্প জানান, তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, দুজনই চুক্তি করতে আগ্রহী। ট্রাম্প বলেন, বুধবারই জেলেনস্কির সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
ট্রাম্পের এই ভাষণ বিশ্বের অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও জ্বালানি নীতি নিয়ে তাঁর স্পষ্ট অবস্থানকে প্রতিফলিত করেছে।