
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) জানিয়েছে, ২০২৬ সালের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে এবং বাংলাদেশের সব ম্যাচ ভারতেই হবে। তিন কারণে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অনুরোধ শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ স্থানান্তরের আবেদন আইসিসি গ্রহণ করেনি।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত বোর্ড সভায় এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।
এর আগে ক্রিকইনফো খবরে বলা হয়েছিল, বিসিবিকে একদিন সময় দেয়া হয়েছে বাংলাদেশ সরকার ও বোর্ডের সঙ্গে পরামর্শ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে। অন্যথায়, বাংলাদেশ দলের পরিবর্তে বিশ্বকাপে বিকল্প দল নেওয়া হতে পারে।
আইসিসি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ ম্যাচ স্থানান্তরের অনুরোধ প্রত্যাখ্যানের তিনটি কারণ তুলে ধরেছে—
১. নিরাপত্তার প্রমাণ নেই:
আইসিসি জানিয়েছে, ‘বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে—এমন কোনো স্বাধীন নিরাপত্তা মূল্যায়ন পাওয়া যায়নি।’
২. লজিস্টিক ও সূচিগত জটিলতা:
টুর্নামেন্ট শুরুর এত কাছাকাছি সময়ে ভেন্যু পরিবর্তন করলে অন্যান্য দল, আয়োজক ও বৈশ্বিক দর্শকদের জন্য বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হবে।
৩. নজিরের প্রভাব:
বিশ্বাসযোগ্য হুমকি ছাড়া সূচি পরিবর্তন করলে ভবিষ্যতে আইসিসির নিরপেক্ষতা ও শাসনব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।
আইসিসি আরও জানিয়েছে, স্বাধীন নিরাপত্তা পর্যালোচনা এবং সব মূল্যায়নে দেখা গেছে, ভারতের কোনো ভেন্যুতেই বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়, কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী বা সমর্থকদের জন্য কোনো হুমকি নেই।
টুর্নামেন্টের সময় ঘনিয়ে আসা:
দশম টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হবে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি। আইসিসির ভাষ্য, ‘টুর্নামেন্টের এত কাছে এসে সূচিতে পরিবর্তন আনা বাস্তবসম্মত নয়।’
আইসিসির এক মুখপাত্র বলেন, “গত দুই সপ্তাহে বিসিবির সঙ্গে একাধিক বৈঠক ও চিঠিপত্রের মাধ্যমে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। এই সময়ে আয়োজক কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা আশ্বাস, ভেন্যুভিত্তিক পরিকল্পনা এবং স্বাধীন মূল্যায়নের বিস্তারিত তথ্য বিসিবিকে প্রদান করা হয়েছে।”
মোস্তাফিজের প্রসঙ্গেও আইসিসির ব্যাখ্যা:
ভারতে উগ্রপন্থীদের হুমকির প্রেক্ষিতে ৩ জানুয়ারি মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। তবে আইসিসি এই ঘটনার সঙ্গে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নিরাপত্তার কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছে। তারা বলেছে, “একজন খেলোয়াড়ের ঘরোয়া লিগ সংক্রান্ত ঘটনাকে বিশ্বকাপের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত করে দেখা ঠিক নয়।”
আইসিসি জানিয়েছে, টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা তাদের আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল এবং তারা এখনও সেই অবস্থানেই রয়েছে।