
উত্তরাঞ্চলে তারেক রহমানের নির্ধারিত সফর কেন স্থগিত হলো, তার পেছনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরলেন বিএনপির শীর্ষ নেতা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি জানালেন, এটি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কেন্দ্র করে আয়োজিত একটি সামাজিক আয়োজন থেকেই বিষয়টির সূত্রপাত।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, “সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য সিরাজগঞ্জে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছিলাম। তারেক রহমানকে অনুরোধ করেছিলাম, যেন সে দোয়ায় সামিল হয়। সে রাজিও হয়েছিলেন। এটি সামাজিক অনুষ্ঠান ছিল, কোনো রাজনৈতিক অনুষ্ঠান ছিল না। বেগম খালেদা জিয়া সিরাজগঞ্জকে ভালোবাসতেন, তিনি সিরাজগঞ্জ আসতেন। তাই সিরাজগঞ্জের মানুষেরও দোয়া করার চাহিদা ছিল, সেজন্য দোয়ার আয়োজন করেছিলাম।”
তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, “কিন্তু হঠাৎ করে দেখলাম, জামায়াত ও তাদের যে জোট হয়েছে তারা নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড দেখতে পাচ্ছে না। তারা নির্বাচন কমিশনকে অভিযোগ করেছে, তাই নির্বাচন কমিশন আমাদের অনুরোধ করেছে। যে তিনি (তারেক রহমান) যেন সফরে না আসেন।”
শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে সিরাজগঞ্জে নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “আমরা দীর্ঘ ১৭ বছর এই ফ্যাসিস্টের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি। একটাই কারণ- এই দেশের মানুষের ভোটার অধিকার হরণ করে নিয়েছিল। বিএনপি কখনো মাঠ ছেড়ে যায়নি। আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আসার পর নির্বাচনের জন্য অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু তারা কালক্ষেপণ করে দেড় বছর পরে নির্বাচন দিয়েছে। আমরা দেশে স্থিতিশীলতা আনতে চাই, নির্বাচনকে অর্থবহ করতে চাই। কেননা একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশ চালাতে পারে না।”
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে টুকু বলেন, “বিএনপি জনগণের ভোটে রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে ফ্যামিলি কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড, শিক্ষা কার্ডসহ ৩১ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি উন্নয়নশীল ও কল্যাণরাষ্ট্র গড়ে তোলা হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির সহসভাপতি মুজিবুর রহমান লেবু, আজিজুর রহমান দুলাল, নাজমুল হাসান তালুকদার রানা, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মুরাদুজ্জামান মুরাদ এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল কায়েসসহ দলের বিভিন্ন স্তরের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।